ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি— এটি এমন এক পরম আরাধ্য শিরোপা, যা জীবনে একবার হলেও জেতার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের সব ফুটবলার। বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমু এঁকে দিতে লড়াই করে বিশ্বের সব সেরা দলগুলো। যে শিরোপার জন্য এত কিছু, সেই শিরোপাই যদি হারিয়ে যায়, সেই মুহূর্তটা কেমন হতে পারে?
‘জুলে রিমে’ ট্রফিটি দেখেছে বিশ্বযুদ্ধসহ নানা রকম প্রতিকূলতা। এসব প্রতিকূলতা পেরিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি; চুরি হয়ে যায় ট্রফিটি।
১৯৭০ সালে তৃতীয়বারের বিশ্বকাপ জিতলে ব্রাজিলকে স্থায়ীভাবে ‘জুলে রিমে’ ট্রফিটি দিয়ে দেয়া হয়। তখন থেকে এর ঠিকানা ছিলো রিও ডি জেনেরিওর ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের অফিস হুয়া দা আলফানদেগাতে। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরের এক কালো রাতে সেখান থেকেই ট্রফিটি চুরি হয়।
আরও পড়ুন:
চোরদের ধরতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলো সিবিএফ, কিন্তু লাভ হয়নি। ট্রফি খুঁজে পেতে একের পর এক অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয় ব্রাজিলের পুলিশ। কিছু গ্রেপ্তার ও সন্দেহভাজনের বেশি এগোয়নি মামলা। শেষ পর্যন্ত আর কখনো পাওয়া যায়নি জুলে রিমে।
অবশ্য জুলে রিমে ট্রফি চুরি হয়েছিলো এর আগেও। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ শুরুর মাস তিনেক আগে ওয়েস্ট মিনিস্টার সেন্ট্রাল হলে একটি প্রদর্শনী থেকে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা ইংল্যান্ডের জাতীয় সম্মানের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এমন অবস্থায় তাদের সম্মান বাঁচায় পিকলস নামের এক কুকুর! যার বিনিময়ে কুকুরটিকে এক বছরের খাবার উপহার দেয় ইংল্যান্ডের সরকার।
১৯২৯ সালে ফরাসি ভাস্কর আবেল লাফ্ল জুলে রিমে ট্রফি তৈরি করেছিলেন। ৩ দশমিক ৮ কেজি ওজনের এ ট্রফিতে চুমু খেয়েছেন পেলে-গারিঞ্চা থেকে শুরু করে অনেক কিংবদন্তি ফুটবলাররা। এই মহামূল্যবান ট্রফিটি পুরোপুরি নিজেদের করে পেলেও হারিয়ে ফেলার দুঃখ হয়তো এখনো তাড়া করে বেড়ায় ব্রাজিলিয়ানদের।





