সেমিনারে ‘বাঙালির নন্দনসূত্র ও দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজা মোহাম্মদ আরিফ।
একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামীর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক লুৎফর রহমান।
এছাড়াও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাহিদ রিপন ও আবু সাঈদ তুলু।
জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজা মোহাম্মদ আরিফ তার প্রবন্ধে নাট্যকার সেলিম আল দীনের নাট্যতত্ত্ব, দর্শন, জীবন ও কর্ম সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা করেন।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘প্রবন্ধে “ভারতীয় ভক্তিবাদের পঞ্চম সূত্র” অচিন্ত্যদ্বৈতাদ্বৈতবাদের অনুপ্রেরণায় “দ্বৈতাদ্বৈতবাদী” শিল্পতত্ত্বের স্বরূপ নির্ধারিত হয়েছে। এ শিল্প মতবাদের প্রবক্তা সেলিম আল দীন। দ্বৈতাদ্বৈতবাদে পাশ্চাত্য শিল্পরীতির বহুবিভাজন রীতিকে খারিজপূর্বক এমন এক মুক্ত আঙ্গিকের অন্বেষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে শিল্পের একাধিক আঙ্গিক একীভূত অবস্থায় থাকতে পারে। শিল্পের বহুবিধ আঙ্গিককে এক উৎসকেন্দ্রে নিমগ্ন করে দেয়াই এ শিল্প মতবাদের উদ্দেশ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেলিম আল দীনের মতে, দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব বাঙালির নিজস্ব শিল্পরীতি। সহস্র বছর ধরে গড়ে ওঠা বাঙালির শিল্পসূত্রকে এ মতবাদের দ্বারা পুনরোদঘাটন করা হয়েছে। “দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্বে” বাংলা নাট্যের প্রাচীনত্ব অনুসন্ধানের পাশাপাশি আঙ্গিক, গঠন-কাঠামো, দার্শনিক অভিপ্রায় এবং পরিবেশনারীতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা ও তাত্ত্বিক ধারণা প্রদান করা হয়েছে।’
প্রবন্ধকার বলেন, ‘তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘সেলিম আল দীনের নাটকের প্রেক্ষাপট সুবিস্তৃত, অসংখ্য ঘটনা ও চরিত্রবহুল, সংলাপ ও বর্ণনার তীব্র মাখামাখি, নাটকের গড়ন উপন্যাসের মতো, ভাষারীতি গদ্য এবং পদ্য মথিত, গদ্য আবার কাব্যময়। আখ্যান, উপকাহিনী, সংলাপ, বর্ণনা, গীত, গদ্য, পদ্য প্রভৃতির সমারোহে বিচিত্রগন্ধী।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার নাটক একইসঙ্গে উপন্যাস, কাব্য, নাটক বা আখ্যান। একাধিক স্বতন্ত্র আঙ্গিক এভাবে একসাথে ব্যঞ্জিত হয় বলে এ শিল্প মতবাদকে দ্বৈতাদ্বৈতবাদ নামে অভিহিত করেছেন।’





