ঈদ মোবারক: আনন্দ, মিলন আর শেকড়ে ফেরার উৎসব

ঈদ আনন্দ
ধর্ম ও বিশ্বাস
1

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম-সাধনার পর আকাশে দেখা গেছে বাঁকা চাঁদ। সেই সঙ্গে শেষ হয়েছে অপেক্ষা। এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। কাজী নজরুল ইসলামের চিরচেনা গান ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’র সুরে সুর মিলিয়ে উৎসবের আমেজে ভরে উঠেছে চারপাশ। আগামীকাল (২১ মার্চ, শুক্রবার) দেশব্যাপী উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই মিলনমেলা। সেই আবেগে ভর করেই প্রতিবছরের মতো এবারও লাখো মানুষ ছুটেছেন গ্রামের পথে। যান্ত্রিক শহর ছেড়ে শেকড়ের টানে প্রিয়জনের কাছে ফেরার এ যাত্রা যেন বাঙালির জীবনের অন্যতম বড় আবেগ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়, একসঙ্গে বসে সেমাই খাওয়ার আনন্দ সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।

ঈদকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ছিল নগরীর বিপণিবিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। নতুন পোশাকের ঘ্রাণে মুখর ছিল শিশু থেকে শুরু করে বড়দের মনও। পাঞ্জাবি, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা শিশুদের রঙিন পোশাকে জমে উঠেছে উৎসবের রঙ। হাতে মেহেদির নকশা আর নতুন জুতোর ঝলকে ভবিষ্যতের আনন্দ খুঁজে নিচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা।

আরও পড়ুন

ঈদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য সাম্যের বার্তায়। ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড় ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। এ দৃশ্যেই প্রতিফলিত হয় ইসলামের সমতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা। ঘরে ঘরে মিষ্টিমুখ আর আপ্যায়নের ব্যস্ততা; সেমাই, ফিরনি, পোলাও, কোরমার ঘ্রাণে উৎসব হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

প্রযুক্তির কল্যাণে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়েও এসেছে নতুন মাত্রা। দূরে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময়—সব মিলিয়ে দূরত্ব যেন আর বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

ঈদের আনন্দ এক দিনের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; এটি ছড়িয়ে পড়ে হৃদয়ে, সম্পর্কের বন্ধনে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠুক এক সুন্দর সমাজ, এই প্রত্যাশাতেই উদযাপিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর।

সবাইকে ঈদ মোবারক।

এনএইচ