লবণাক্ত পানিতে বিপর্যস্ত বরগুনার হাসপাতাল; বিশুদ্ধ পানির হাহাকার

বরগুনার হাওর ও পানির বোতল
এখন জনপদে
0

চারদিকে নদী আর থৈ থৈ পানি থাকলেও বিশুদ্ধ পানির জন্য তীব্র হাহাকার। উপকূলীয় জেলা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক বছর ধরে অচল একমাত্র পানি শোধনাগারটি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসক, নার্স ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে সাপ্লাইয়ের পানিও ব্যবহারের অনুপযোগী।

চারদিকে নদী, খাল-বিল আর বিশাল জলাশয়ের বিস্তৃতি। অথচ পানির এই জনপদেই এখন চলছে নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার। উপকূলীয় জেলা বরগুনার পাথরঘাটায় সুপেয় পানির সংকট এখন আর কেবল সাধারণ সমস্যা নয়, রূপ নিয়েছে দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটে।

সবচেয়ে করুণ দশা পাথরঘাটার ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন অন্তত ২০০ রোগী। চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফ মিলিয়ে আছেন আরও ৫০ জন। কিন্তু গত এক বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে হাসপাতালের একমাত্র পানি শোধনাগারটি। ফলে সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা মিললেও, মিলছে না বিশুদ্ধ পানি।

রোগীরা জানান, এখানে খাবার পানির সংকট রয়েছে। তাদের পানি কিনে খেতে হচ্ছে। ফিল্টারের ব্যবস্থা করলে তাদের জন্য উপকার হবে বলে জানান তারা।

উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় এই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণের মাত্রা প্রায় ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত, যা পানের সম্পূর্ণ অযোগ্য। তার ওপর মাটির গভীরে শক্ত পাথর থাকায় বসানো যায় না গভীর নলকূপ।

আরও পড়ুন:

হাসপাতালের সাপ্লাইয়ের পানিতে তীব্র লবণ ও দুর্গন্ধের কারণে চিকিৎসক ও নার্সদেরও প্রতিদিন বোতলজাত পানি কিনতে হচ্ছে। আর যারা পানি কিনতে পারছেন না, তারা বাধ্য হয়ে ব্যবহার করছেন অনিরাপদ এই পানি। ফলে হাসপাতাল থেকেই রোগীরা আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ নানাবিধ পানিবাহিত রোগে।

স্থানীয়রা জানান, ৫ লিটার পানির জন্য গুনতে হচ্ছে ১২০ টাকা। পানির জন্য বাজারে যেতে হয় তাদের।

এদিকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে পানি শোধনাগারটি মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন সিভিল সার্জন। এছাড়া হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটিকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশনা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘আমি নির্দেশনা দেব স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে একটি রেজ্যুলেশন করতে। উপজেলা পরিষদ থেকে বা ইউওনোর মাধ্যমে আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।’

আশ্বাস আর বরাদ্দের অপেক্ষায় কেটে গেছে একটি বছর। কিন্তু পাথরঘাটার হাসপাতালের রোগীদের দুর্ভোগ কমেনি একটুও। উপকূলের এই প্রান্তিক মানুষগুলোর প্রশ্ন, হাসপাতাল থেকে রোগ সারিয়ে বাড়ি ফেরার বদলে নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার এই করুণ বাস্তবতার শেষ কোথায়?

এফএস