বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বাড়ছে দ্বন্দ্ব; জানুয়ারিতে সংঘাতের শঙ্কা

বিশ্ব ইজতেমার চিত্র
দেশে এখন
0

আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাওলানা জুবায়ের এর অনুসারীরা ২ পর্বের অনুমতি পেলেও এখন পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি মাওলানা সাদপন্থীদের। সাদ অনুসারীরা বলছেন, টঙ্গী মাঠ ছাড়া অন্য কোথাও ইজতেমা সম্পূর্ণ করার উপযুক্ত স্থান নেই। অন্যদিকে মাওলানা জুবায়ের এর অনুসারীদের দাবি, মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের ইজতেমা করার অযৌক্তিক দাবি ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি মেনে নেবে না।

সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে আর কয়েক মাস পরেই লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি বিশ্ব ইজতেমায় তুরাগ নদীর পাড়ে সমবেত হবে। উচ্চারিত হবে আমিন আমিন ধ্বনি।

এরই মধ্যে আগামী বছর জানুয়ারিতে ২ পর্বের বিশ্ব ইজতেমার প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করেছে সরকার। দুই পর্বেই অনুমতি পেয়েছে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজাম অনুসারীরা। এখন পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের।

এ নিয়ে আবারও বিশৃঙ্খলার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাওলানা সাদের মুখপাত্র জানান, বিশ্ব ইজতেমায় লাখ লাখ মুসুল্লি মিলিত হয় তাই টঙ্গী ছাড়া ইজতেমা করার সুযোগ নেই। আর শুরায়ী নেজামের অনুসারীদের দাবি টঙ্গীতে ইজতেমা করবেনা সর্তেই ২০২৫ সালে মাওলানা সাদের অনুসারীরা ইজতেমা করার অনুমতি পেয়েছিল।

শুরায়ী নেজাম অনুসারীর মুখপাত্র হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, ‘এখানে প্রায় ৮-১০ লক্ষ লোকের মজমা। সেই স্পেস দিতে হবে এবং তাদের যে নাগরিক সুবিধা—পানি বা অন্য যত সুযোগ-সুবিধা, এ জিনিসগুলো দেয়ার মতো আর কোথায় আছে? টঙ্গীর বিকল্প কোথায় আছে?’

আর শূরাঈ নিজামের অনুসারীদের দাবি, টঙ্গীতে ইজতেমা করবেন না শর্তেই ২০২৫ সালে মাওলানা সাদের অনুসারীরা ইজতেমা করার অনুমতি পেয়েছিল।

মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী জানান, ইসলাম শান্তির ধর্ম তাই তারা নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হোক তা চায় না। বলেন, ২০২৫ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কোন প্রকার আলাপ আলোচনা ছাড়াই শর্ত চাপিয়ে দিয়েছিল।

তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ অনুসারীর মুখপাত্র মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘শর্তটা সাদপন্থীরা মেনে নিয়েছে, ইজতেমাও করেছে। এখন এসে তারা একটা চতুরতার আশ্রয় নিচ্ছে যে, না, আমরা তো কোনো শর্তের কথা জানিই না! আমাদের যে দুইটা ইজতেমার তারিখ দেয়া হয়েছে, দুইটাই কিন্তু শূরাঈ নিজামের অধীনে হবে।

‘সাদপন্থীদের এখনো কোনো ইজতেমার তারিখ দেয়া হয়নি। জোরপূর্বক চাপানো হয়নি, এটা ছিলো তাদের নিজ হাতের কামাই। যে মাঠে ওরা দুই দুইবার হামলা করল, টঙ্গীর মাঠকে রক্তাক্ত করল, সেই মাঠে ওরা দ্বিতীয়বার ইজতেমা করবে—সেটা তো আসলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মেনে নিবে না। এবং তারা এটা লিখিতও দিয়েছে যে, আমরা এ বছরই ইজতেমা করব, এরপরে আর কখনো ইজতেমা করব না।’

মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী জানান, ইসলাম শান্তির ধর্ম, তাই তারা নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হোক—তা চান না। তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা ছাড়াই শর্ত চাপিয়ে দিয়েছিল।’

শুরায়ী নেজাম অনুসারীর মুখপাত্র হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, ‘একটা পরিপত্র অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর সাহেব এবং সহকারী উপদেষ্টা খোদা বকশ সাহেব একটা পরিপত্র জারি করে, এটা সম্পর্কিত একটা বিতর্কিত পরিপত্র। আমাদের রিসিভ কপি আমাদের কাছে আছে, দিয়া আসছি, যেটার সঙ্গে আমরা কখনো কোনো সময় একমত হই নাই।

‘এটা একটা বিতর্কিত এবং চক্রান্ত করে আমাদের সঙ্গে প্রতারণামূলক একটা চিঠি প্রেরণ করছে। আমাদের প্রতিনিধিদেরকে ডেকে আমাদের বড়রা মাশওয়ারা করছে, সবারই আমাদের এক কথা যে, আমরা কোনো উসকানি এবং সহিংসতার দিকে আমরা যাব না।’

সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে বলেও জানান সাদ অনুসারীরা।

জেআর