উশু, জুডো, কারাতে এমনকি বিচ ভলিবলের মতো ইভেন্টে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে এশিয়ান গেমসে খেলতে উড়াল দেয়ার অপেক্ষায় খেলোয়াড়রা। তবে উল্টো চিত্র এশিয়ান গেমসে নিয়মিত অংশগ্রহণ করা তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনে।
লাল সবুজের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বমঞ্চে লড়াই করার বুকভরা স্বপ্ন। বাছাই কার্যক্রম শেষে বেশ কয়েকজনের নামও পাঠানো হয় বিওএতে। মাসের পর মাস নিজ খরচে প্রস্তুতিও নেন খেলোয়াড়রাও। তবে বিগত ফেডারেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভুলে সেই স্বপ্ন এখন হাতছাড়া।
এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে কোয়ালিফাই করতে গত মে মাসে মঙ্গোলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া তায়কোয়ান্দো পুমসে চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করতেই হতো লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। যা নিয়ে কোনো ধারণাই ছিলো না বিগত বোর্ডের কর্তাদের।
তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় শিশির আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা প্লেয়ার, আমাদের কাজ হচ্ছে খেলা। কিন্তু আমাদের খেলাটা কীভাবে আয়োজন করতে হবে, কোথায় খেলতে হবে, সেটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত কাজ।’
তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় নুরনাহার আক্তার বলেন, ‘পুরা বাংলাদেশের মধ্যে আমি কত নম্বরে আছি, তো সেই সিস্টেম করে আমার র্যাংকিং ডিসাইড করা হয়। সেক্ষেত্রে যদি এশিয়ান গেমে পার্টিসিপেট করতে না পারি, আমার ন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল দুইটাতেই প্রভাব পড়বে।’
আরও পড়ুন:
এ নিয়ে নতুন ও পুরাতন কমিটি একে ওপরকে দোষারোপে ব্যস্ত। ব্যর্থতার দায় নিতে রাজি নয় কেউই।
বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা বলেন, ‘তাদের এ জ্ঞানের অভাব ছিল। কেন ওনারা বুঝতে পারে নাই বা বুঝতে চেষ্টাও করে নাই যে এশিয়ান গেমস না খেললে যে অলিম্পিক—এশিয়ান গেমসে যাইতে পারবে, এটা এরা বুঝতে পারে নাই।’
বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হাসানুজ্জামান বাবুল বলেন, ‘কেউ যদি আমার থেকে তির অপেক্ষা করে, আমি যেই জিনিসটা ছেড়ে আসছি আজকে তিন মাস-চার মাস ধরে চলে আসছি, সেখানে আইসা এখন তারা যদি আইসা আমাকে কোনো ব্লেম দিতে চায়, এই এটার জবাব তো আমি দিতে রাজি না। কম্পিটিশনটা আমরা যাইতে পারলে এতটুকু যদি আমি জানতাম, তাহলে তো আমরা অন্তত একটা ছেলেকে, দুইটা ছেলেকে তো অন্তত পাঠানোর জন্য নিজের স্বার্থে হলেও তো পাঠাইতে পারতাম।’
স্বপ্নভঙ্গের বেদনা যে অনেক যন্ত্রণার। তবে সব ভুলে আগামী বছরের এস এ গেমসের প্রস্তুতিতেই চোখ তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের।





