পাবনার ঈশ্বরদী, চাটমোহরের সুবাদে পাবনাবাসী রেলসেবা পেলেও পাবনা শহরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এ সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলো। ২০১৯ সালে পাবনা-রাজশাহী গন্তব্যে ট্রেন চলাচল করলেও রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ ছিল না।
জেলা সদর থেকে রাজধানী ঢাকা সরাসরি ট্রেন সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে পাবনা জেলা সদরের মানুষ সড়ক পথে ঢাকায় যাতায়াত করতেন। কিন্তু সড়কপথে যানজট, দীর্ঘ সময় এবং অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হতো।
এবার সে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ঢাকা-পাবনা রেল চলাচল। এতে উচ্ছ্বসিত জেলার সকল শ্রেণির মানুষ। স্থানীয়রা জানান, ট্রেনটা চালু হলে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ হবে। আর পাবনা থেকে মানুষ খুব সহজে ঢাকা যেতে পারবে।
আরও পড়ুন
এরইমধ্যে স্টেশনের আধুনিকায়নসহ সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঊর্ধ্বতন মহল যেদিন সিদ্ধান্ত নেবেন সেদিনই ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার জন্য পাবনা রেলওয়ে স্টেশন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান স্টেশন ইনচার্জ।
পাবনা রেলস্টেশন স্টেশন ইনচার্জ মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পাবনা স্টেশনের কাঠামোগত সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়া লাইনগত বা এক্সিডেন্টাল যা ক্রুটি ছিলো সেগুলো ইনশাল্লাহ শেষ হয়ে গেছে। পাবনা টু ঢাকা অতি শিগগিরই লাইন চালু হবে।’
এদিকে রেল সচিব জানান, ২০টি নতুন কোচ সৈয়দপুরের রেল কারখানায় প্রবেশ করেছে। কমিশনিংসহ কারিগরি সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই পাবনা থেকে ঢাকা রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল চালু করা সম্ভব হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কিছু ইন্টারনাল প্রসেস আছে এগুলো এডজাস্ট করবো আমরা করতে আমাদের সপ্তাহ তিনেক লাগবে। আমরা আশা করছি যে নভেম্বরের মাঝামাঝি কোনো একটি দিনে আমরা এটি উদ্বোধন করতে পারব।’
দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকা সরাসরি রেল যোগাযোগ থাকলেও প্রায় দুশো বছরের পুরনো জেলা পাবনার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার কোনো রেল যোগাযোগ ছিলো না। নতুন শুরু হতে যাওয়া পাবনা থেকে ঢাকা সরাসরি ট্রেন চলাচল জেলার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।





