এর আগে, গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে কয়েকজন মাদ্রাসাছাত্র এসে হেলাল মিয়াকে গানবাজনা বন্ধ করে ভিক্ষাবৃত্তি করার জন্য বলেন। এতে করে আতঙ্কে গান বন্ধ করে দেন হেলাল ও পরিবারের সদস্যরা। ফলে তাদের রোজগার বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠে মানুষকে গান শুনিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হেলাল মিয়া। তার কণ্ঠে মারফতি, মুর্শিদী ও কাওয়ালীর মতো আধ্যাত্মিক গানগুলো উজ্জীবিত করে বিভিন্ন বয়সী মানুষকে। শুধু হেলালই নন, তার পরিবারের আরও ৮ জন সদস্য জন্ম থেকেই অন্ধ। গান গেয়েই সংসার চলে অন্ধ হেলালের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর গ্রামের বাসিন্দা হেলাল মিয়া জন্ম থেকেই অন্ধ। তিনি ছাড়াও তার চার ছেলে ও এক মেয়ে এবং দুই নাতি ও এক নাতনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হলেও ভিক্ষাবৃত্তি না করে বরং মানুষকে গান শুনিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠে গানের আসর জমান হেলাল ও তার পাঁচ ছেলে-মেয়ে। তাদের কণ্ঠে গানের সুর উঠতেই জমে উঠে আসর। যোগ দেন নানা বয়সী মানুষ। এভাবেই প্রতিদিন হেলাল ও তার সন্তানদের গান শুনে খুশি হয়ে টাকা দেন মানুষজন। আর সেই টাকা দিয়ে জীবন চলছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারটির।
হেলাল মিয়া অভিযোগ করেন, গেল বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে কয়েকজন মাদ্রাসাছাত্র এসে গান-বাজনা বন্ধ করে ভিক্ষাবৃত্তি করতে বলেন। অন্যথায় বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করবেন বলে হুমকি দেন। হুমকির পর থেকে আর গান করছেন না বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
পরে হুমকির বিষয়টি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাকে জানানোর পর তিনি আজ থেকে তাদের পুনরায় গানের আসর জমাতে অভয় দেন।
হেলাল মিয়া বলেন, ‘গত ছয়দিন রোজগার বন্ধ থাকায় চলতে খুব কষ্ট হয়েছে। কচি ভাইয়ের কথায় আজকে থেকে আবার গান শুরু করেছি। তবে যে জায়গাটিতে বসতাম, সেটি হকাররা দখল করে ফেলেছে। পাশের একটি জায়গায় আজকে গান করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এখনও ভয়ে আছি, যদি আবার কিছু হয়! এর আগেও দুই দফা গান বন্ধের হুমকি দেয়া হয়েছিল।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি মুবারক উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা (মাদ্রাসাছাত্র) বাধা দিয়েছে, এটি আমি জানি না। আমাদের কোনো বাধা-নিষেধ নেই। তবে আমরা অনুমতি দিতে পারি না যে, গান হোক। যেহেতু গান শরীয়তে নিষিদ্ধ, তাদের পথে তারা চলুক। তাদের বাধা দেয়নি কেউ।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরিবারকে গান গাইতে বাধা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে আরও খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এ বিষয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 and after images of the Betrawati area in Nepal-320x167.webp)



