কেন্দ্র থেকে প্রান্ত উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে পুরুষের পাশাপাশি অবদান রাখছেন নারীরা। কিন্তু দু’মুঠো খাবার যোগাড় কিংবা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে নারীদের সংগ্রাম অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়।
চাঁদপুরের পুরান বাজার মোমপট্টি এলাকার ষাটোর্ধ্ব রাশিদা বেগম। এখনো শেষ হয়নি বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই বৃদ্ধার জীবন সংগ্রাম। বেঁচে থাকার তাগিদে স্থানীয় বৌবাজারে বিক্রি করছেন সবজি। আশায় আছেন, আগামীর সরকার হয়তো পাশে দাঁড়াবে প্রান্তজনের।
রাশিদা বেগম বলেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ। আমার কিছু করার শক্তি সামর্থ্য নাই। ধনে আর কাঁচা মরিচ কিনে বিক্রি করি। সরকার যদি আমার দিকে চায়, তাহলে ভোট পাবে।’
সমাজে এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি নারীবান্ধব কর্ম পরিবেশ। এখনো অবমূল্যায়িত প্রান্তিক নারীর শ্রমের মূল্য। তবে, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে অনেকেই মুখোমুখি টিকে থাকার লড়াইয়ে। আগামীর সরকার নারী সমাজের উন্নয়নে এগিয়ে আসবে এমন প্রত্যাশা বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নারীদের।
আরও পড়ুন:
নারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সুষ্ঠুমতো নির্বাচন হোক, কোনো হানাহানি, কোনো মারামারি না হোক, এটাই চাই। কোনো নারী নির্যাতন হোক, এটা আমরা চাই না।’
অন্য একজন বলেন, ‘মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষেত্রটা আরও বেশি প্রসারিত হোক। তারপর কাজের ক্ষেত্রটা আরও নিরাপদ হোক।’
দেশের অগ্রযাত্রায় পুরুষের পাশাপাশি প্রয়োজন নারীদের উন্নয়ন। শিক্ষা, নিরাপত্তার পাশাপাশি নারীদের কর্মক্ষম করতে প্রয়োজন উদ্যোক্তা সৃষ্টির। সুদমুক্ত ঋণ সুবিধার পাশাপাশি নারীদের ব্যবসার জায়গা দেয়া গেলে অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে।
নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে, তাহলে আরও উদ্যোক্তা তৈরি হবে। আর একটা দেশ কখনোই আগাতে পারবে না যদি নারীরা পিছিয়ে থাকে।’
উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরা আক্তার বলেন, ‘নারীদের যত বেশি কাজের সঙ্গে ইনভলব করবে, নারীদের যত বেশি নিরাপত্তার জায়গায় সরকার প্রতিশ্রুতিশীল হবে, ততবেশি নারীর কাছ থেকে অর্থনীতিতে অবদানের আরও বেশি ভূমিকা পাবে।’
জেলায় মোট ভোটার প্রায় ২৩ লাখ ৩১ হাজার। এরমধ্যে প্রায় ১২ লাখ পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি নারী ভোটার ১১ লাখ ৩০ হাজার। যাদের ভোটাধিকারে নির্বাচিত হবে আগামীর সরকার।




