গতকাল (শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি) রাতে লালমোহন উপজেলার রায়চাঁদ বাজারে মোটরসাইকেল মহড়া থেকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত পাঁচজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) কয়েকজন নারী কর্মী রায়চাঁদ বাজার এলাকায় গণসংযোগে নামেন। তারা বিএনপির এক নেতার বাড়িতে গেলে বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাদের বাধা দেন এবং অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কর্মী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিএনপি কর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালসহ উভয় দলের সিনিয়র নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করেন।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম অভিযোগ করে বলেন, ‘রাতে রায়চাঁদ বাজার থেকে আমাদের সমর্থকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বিএনপির কয়েকজন কর্মী পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় জামায়াত নেতা সোলাইমান জমদার ও আবু জাফরসহ তাদের ১১ জন আহত হয়েছে’
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘জামায়াতের সহায়তায় বিডিপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে লালমোহনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। মাগরিবের পর আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট ক্যাডাররা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় বিএনপির ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জসিম মাস্টার, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন নান্নু, নুরনবী, বসির, ইমন, হৃদয়সহ ১২ জন আহত হয়েছে।’
এ ঘটনায় এখনও দুই দলের নেতাকর্মীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে উল্লেখ করে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল জুমার নামাজের আগে জামায়াতের নারী কর্মীদের দাওয়াতি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে সন্ধ্যার পর রায়চাঁদ বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া ও পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে ফের সংঘর্ষ বাধে।
তিনি আরও জানান, এদের মধ্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন আহত ব্যক্তি ভর্তি হন, যাদের মধ্যে ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।





