নেত্রকোনার ধানের পাশাপাশি মাছ অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি। সেক্ষেত্রে স্থানীয়দের চাহিদার শীর্ষে শুঁটকি মাছ। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শুঁটকি মাছের উৎপাদন ও বিক্রি।
অনিল চন্দ্র বর্মন, দীর্ঘ আট বছর ধরে জড়িত চ্যাপা শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে। বছরের প্রায় ছয় মাস ব্যস্ততা থেকে তাদের। তবে স্বল্প পুঁজি আর সরকারি সাহায্য সহযোগিতার অভাবে ঝুঁকিতে তাদের এই প্রাচীন পেশা।
অনিল চন্দ্র বর্মনের মত নেত্রকোণার শতাধিক কারিগর জুন থেকে আগস্টের শুরুতেই শুঁটকি তৈরি শুরু করেন। যা পরবর্তীতে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি করেন। মূলত বড়ো মাটির হাঁড়িতে স্থানীয় কিংবা সামুদ্রিক মাছ প্রক্রিয়াজাত করে তা বিশেষ প্রক্রিয়ায় তিন থেকে ছয় মাস মাটি দিয়ে ঢেকে রেখে তৈরি হয় ভাটি অঞ্চলের জনপ্রিয় এই চ্যাপা শুঁটকি।
আরও পড়ুন : রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য, জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা
স্থানীয় বাজারেও সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় চ্যাপা শুঁটকির। জেলার অন্যতম শুটকির বড় বাজার মোহনগঞ্জ, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় মান ও প্রকার ভেদে শুটকি বিক্রি হয় ৩শ থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বাইরের বিভিন্ন স্থানে শুঁটকি সরবরাহ করেন ব্যবসায়ীরা। মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, নিরাপদ শুঁটকি মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রশিক্ষণসহ নেয়া হচ্ছে নানা রকম কর্মসূচি।
নেত্রকোনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘নেত্রকোণায় শুঁটকিতে কীটনাশক ব্যবহারের কোনো প্রবণতা নেই। এজন্য এই নিরাপদ শুঁটকি উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য এবং আরও বেশি মৎস্যজীবীদের শুঁটকি উৎপাদনে নিয়োজিত রাখার জন্য মোটিভেশন দিচ্ছি।’
মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, নেত্রকোণায় বছরে উৎপাদন প্রায় ২৩০ মেট্রিক টন শুঁটকি মাছের আর বাণিজ্য ১৪কোটি টাকার।





