ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্প

এখন জনপদে
0

শরীয়তপুর–চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ অনিশ্চয়তা। ৯৫ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া ৪৩১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রায় পুরোটাই শেষ হয়ে গেছে মাত্র ৪৯ হেক্টর জমি অধিগ্রহণেই। ফলে বাকি ৪৬ হেক্টর জমির অধিগ্রহণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে পুরো প্রকল্পে। থমকে গেছে সড়ক নির্মাণ কাজ। ছয় বছরে ৩৫ কিলোমিটার সড়কের মাত্র ছয় কিলোমিটার নির্মাণ শেষ হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক।

শরীয়তপুর–চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। যে প্রকল্পে ২০১৮ সালে জেলা প্রশাসনের তৈরি প্রাক্কলনে পুরো ৯৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে অর্ধেকের একটু বেশি জমি অধিগ্রহণেই শেষ হয়ে গেছে পুরো বরাদ্দ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা।

শরীয়তপুরের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, ‘১১টা কেস আমরা বুঝে পেয়েছি। এখানে ভূমি অধিগ্রহণের ধারা ৪৩১ কোটি টাকা। এ ১১টা কেসেরই এ ৪৩১ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। বাকি আটটা কেসের জন্য আর কোনো টাকা আপাতত ডিপিপিওতে ধরা নেই।’

শরীয়তপুর–চাঁদপুর সড়কের পাপরাইল এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম সরদার। ছোট একটি চায়ের দোকানই তার জীবিকার একমাত্র ভরসা। টিনশেডের জরাজীর্ণ ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস। বর্ষা এলেই ঘর আর দোকান ডুবে যায় বৃষ্টির পানিতে। অথচ অধিগ্রহণ এলাকায় পড়ায় ঘর মেরামতেও রয়েছে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা।

ইব্রাহিম সরদার বলেন, ‘পাঁচ-সাত বছর ধরে টাকা পয়সা দিচ্ছে না। ঘরের অবস্থা খারাপ। ঘরেও থাকতে পারি না, ব্যবসা বাণিজ্যও করতে পারছি না। টাকা দেবে দেবে করে ঘুরাচ্ছে।’

ইব্রাহীমের মতো আরও শত শত জমির মালিক একই দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। ছয় বছরেও পাননি ক্ষতিপূরণের টাকা। নতুন ঠিকানায় যাওয়ার সুযোগ নেই, আবার দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জমির বাজারমূল্য। সব মিলিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাদের বড় দুশ্চিন্তার কারণ।

আরও পড়ুন:

জমির মালিকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘প্রথমে পেয়েছি চার ধারার নোটিশ, এরপর পেলাম সাত ধারার। তখন বললো তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই টাকা পেয়ে যাবেন। কিন্তু এখনো পেলাম না।’

৩৫ কিলোমিটার সড়কের বাকি ২৯ কিলোমিটার এখন খানাখন্দে ভরা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। সময় নষ্ট, খরচ বাড়ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। চট্টগ্রামের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগে এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের।

গাড়িচালকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘শরীয়তপুরের রাস্তায় আসলে আমাদের দুর্ভোগ শুরু হয়ে যায়। টেনশনে থাকি কখন হেঙ্গার ভেঙ্গে যায় বা চাকা ব্লাস্ট হয়ে যায় কেচা খাওয়ার কারণে।’

সড়কের আটটি এলএ কেসের আওতায় থাকা ৪৬ হেক্টর জমির অধিগ্রহণ কেন বন্ধ? এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই । তার বক্তব্যের জন্য পরবর্তীতে যোগাযোগের কথা বলেন তিনি। কিন্তু পরে মুঠোফোন এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জেলা প্রশাসক সাড়া দেননি ।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘আপনি যেটা বলছেন সেটা আমার চেক করতে হবে। আমি এটা এখন বলতে পারছি না। এটা হয়েছি কি হয়নি বা আদৌ টাকা কম আসছে, টাকাই কি কম বরাদ্দ আসছে কি না, সেটাও দেখতে হবে।’

২০১৯–২০ অর্থবছরে অনুমোদিত এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৬০ কোটি টাকা। অথচ ভূমি অধিগ্রহণেই অর্থ সংকটে পড়ে থমকে গেছে পুরো উন্নয়ন। কবে শেষ হবে অধিগ্রহণ, কবে ফিরবে স্বস্তি—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও এ সড়কে চলাচলকারীরা।

এসএস