ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে আসা মানুষের চাপ সামলানো এবং শহরের যানজট কমাতে কাজ করছেন এসব স্বেচ্ছাসেবকরা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে তারা ট্রাফিক পুলিশের সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবকদের। বর্তমানে পুরাতন বাস-স্ট্যান্ডে ৫ জন, নিরালা মোড়ে ৫ জন, কালীবাড়ি ব্রিজ ও বিন্দুবাসিনী গার্লস স্কুলের মোড়ে ৫ জন এবং ক্যালসুল এলাকায় ১ জনসহ মোট ১৬ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে মানুষের ব্যাপক ভিড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তবে স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় ভূমিকার কারণে যান চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
স্বেচ্ছাসেবীরা হলুদ-টিয়া রঙের বিশেষ ইউনিফর্ম পরে এবং বাঁশি ব্যবহার করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তাদের ইউনিফর্মে ‘সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু’ লেখা রয়েছে।
আবদুর রহমান নামে এক অটোরিকশা চালক বলেন, ‘যানজট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবীদের কাজ মানুষের উপকারে আসছে। আগে যেখানে সেখানে গাড়ি থামানো যেত, এখন কিছুটা শৃঙ্খলা এসেছে। তবে শহরে রিকশা ও অটোরিকশা বেশি থাকায় দিনদিন যানজটের সমস্যা বাড়ছে।’
আরও পড়ুন:
আরিফ নামে এক রিকশাচালক বলেন, ‘আগে এই মোড়গুলোতে প্রায়ই দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হতো। এখন স্বেচ্ছাসেবীরা থাকায় গাড়ি চলাচল কিছুটা নিয়মের মধ্যে এসেছে। এতে আমাদেরও সময় বাঁচছে এবং যাত্রীদেরও সুবিধা হচ্ছে।’
ভিক্টোরিয়া রোডে কেনাকাটা করতে আসা পথচারী সাদিয়া রহমান বলেন, ‘রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে শহরে মানুষের চাপ অনেক বেড়েছে। আগে এখানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এখন স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করায় চলাচল কিছুটা সহজ হয়েছে।’
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ শাফী ইথেন জানান, ‘সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৫ রমজান থেকে ২২ রমজান পর্যন্ত ১৬ জন স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করছেন। এরপর ২২ রমজান থেকে স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ জন করা হবে এবং তা ঈদের আগ পর্যন্ত চলবে।’
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবীরা জেলা পুলিশের পাশাপাশি শহরের যানজট নিরসনে কাজ করছেন। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং এতে জনগণের ভোগান্তি কমবে।’
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে শহরে মানুষের চলাচল ও কেনাকাটার চাপ অনেক বেড়ে যায়। এতে করে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মানুষের সেই ভোগান্তি কমানোর জন্যই স্বেচ্ছাসেবী টিমকে মাঠে নামানো হয়েছে।টীণ
ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং টাঙ্গাইল শহরের যানজট সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।





