ঈদে সাজছে মৌলভীবাজার: ছাড়, প্রস্তুতি আর পর্যটকের অপেক্ষায় চায়ের রাজধানী

মৌলভীবাজার
মৌলবিবাজারে ঈদকে কেন্দ্র করে সেজেছে পর্যটন স্পটগুলো
ভ্রমণ ও পর্যটন
এখন জনপদে
1

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নতুন সাজে সেজে উঠছে পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার। চা-বাগানের সবুজ গালিচা, পাহাড়ের মায়া, ঝর্ণার সুর আর হাওরের বিস্তৃত জলরাশি—সব মিলিয়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এ জেলাটি এখন অপেক্ষায় হাজারো পর্যটকের পদচারণার। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। হোটেল-রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, যানবাহন; সবখানেই ব্যস্ততা। রমজানের তুলনামূলক স্থবিরতা কাটিয়ে ঈদকে ঘিরে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৌলভীবাজার জেলাটিকে যেন উদার হাতে সাজিয়েছে প্রকৃতি। সবুজ চা-বাগানের সারি, পাহাড়ের ঢেউ, আর ঝর্ণার কলকল ধ্বনি পর্যটকদের টানে বারবার। বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এবং হামহাম জলপ্রপাত-কে ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ বরাবরই বেশি। ঈদকে কেন্দ্র করে এসব স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং পর্যটক সেবায় বাড়তি নজর দেয়া হয়েছে।

হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা জানিয়েছেন, আগাম বুকিং এরইমধ্যে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পূর্ণ হয়েছে। পর্যটক টানতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ৩০ থেকে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের মানসম্মত রিসোর্টগুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

রেস্টুরেন্টগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কর্মচারীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়নে ব্যস্ত। যাতে ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকরা ভালো পরিবেশে খাবার উপভোগ করতে পারেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

পর্যটকদের চলাচলের জন্য চান্দের গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। চালকরা বলছেন, ঈদে পর্যটক বাড়লে তাদের আয়ও বাড়বে, তাই তারা আশায় রয়েছেন।

নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পর্যটন পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। পর্যটন এলাকাগুলোতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে, পাশাপাশি জরুরি সহায়তার জন্য দেয়া হয়েছে হটলাইন নম্বর। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদে বাড়তি পর্যটক সামলাতে এরইমধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে।

পুরো রমজান মাসে পর্যটক কম থাকায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গাইড ও ব্যবসায়ীরা। তাই ঈদকে ঘিরে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান সাজিয়েছেন নতুন পণ্য দিয়ে। তাদের প্রত্যাশা, ঈদের ভিড়ে ভালো ব্যবসা হবে এবং আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারতের ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় অনেক পর্যটক দেশের মধ্যেই ভ্রমণ করছেন। এতে মৌলভীবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে মৌলভীবাজার আবারও পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে, এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বিশ্বাস, পর্যটন খাতের এ গতি শুধু স্থানীয় অর্থনীতিই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এনএইচ