নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত: স্থানীয়রা বলছেন, চালকের অবহেলার কারণে এমন দুর্ঘটনা

বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত
এখন জনপদে
0

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বাগবাড়ি এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচুত্যির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুই শতাধিক আহত হয়েছে। আজ (বুধবার, ১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে এ লাইনচুত্যির ঘটনা ঘটে। এতে উত্তরাঞ্চলের একাংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ট্রেনচালক সিগনাল না বুঝে দ্রুত গতিতে ট্রেন চালিয়ে যাচ্ছিলো। চালকের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বাগবাড়ি এলাকায় গত ১৫-২০ দিন ধরে লাইন সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। তারপর থেকে এ লাইনে সাবধানে ট্রেন চলাচল করছিল।

আতঙ্কে ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীরা লাফ দিয়ে নিচে পড়ে আহত হয়। এসময় সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এলাকাবাসীরাও তাদের সহযোগিতা করে। নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জনকে। এ ঘটনার পর রংপুরগামী সব ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জায়গা থেকে স্লিপারগুলো সরে গেছে।

আরও পড়ুন:

এ লাইন দিয়ে আক্কেলপুর, জয়পুরহাট, পাঁচবিবি, বিরামপুর, হিলি, সৈয়দপুর, নীলফামারী ও চিলাহাটিতে যাওয়া যায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বগুড়া পুলিশ সুপার। দুর্ঘটনার পর ট্রেনের যাত্রীরা যে যার মতো বিভিন্ন যানবাহনে করে গন্তব্যে চলে যেতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন:

স্থানীয় ইব্রাহিম নামে একজন বলেন, ‘গত ১৫-২০ দিন থেকে এ এলাকায় লাইন সংস্কারের কাজ হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে যেসব ট্রেন এ লাইন দিয়ে চলাচল করত তারা সাবধানে চলত। তবে এ স্থান থেকে এক কিলোমিটার দূরে লাল পতাকা টাঙানো আছে। কিন্তু চালক না বুঝে ট্রেন দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিল। ইঞ্জিন পার হলেও বগি হুড়মুড় করে লাইন থেকে পড়ে যায়। এসময় আতঙ্কে ছাদে থাকা যাত্রীরা লাফ দিয়ে নিচে পড়ে। এতে অনেকে হাত পায়ে গুরুতর আহত হয়। ট্রেনচালকের ভুলের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, ‘সৈয়দপুর ও পাকশি থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এরইমধ্যে রওনা দিয়েছে। রাতের মধ্যেই উদ্ধার হবে বলে আশাবাদী। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ প্রশাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তিরত অনেকে চিকিৎসা নিয়ে গন্তব্যে ফিরে গেছেন।’

এসএস