খোঁড়াখুঁড়ি আর অপরিকল্পিত নগরায়নে বিবর্ণ হচ্ছে পরিচ্ছন্ন রাজশাহী

অপরিকল্পিত নগরায়নে বিবর্ণ হচ্ছে রাজশাহী
এখন জনপদে
0

সবুজ, পরিচ্ছন্ন রাজশাহী শহর অপরিকল্পিতভাবে বাড়তে থাকা নগরায়ণে বাড়ছে নির্মাণ। আর খোঁড়াখুঁড়ি শহরকে করছে বিবর্ণ। সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বল অবস্থা আর অভিভাবকহীন নগর ব্যবস্থাপনায় নষ্ট হচ্ছে নগরীর পরিবেশ আর সুনাম।

নির্মল বাতাসের সঙ্গে সৌন্দর্য্যময় সবুজের মাঝে প্রাণভরে শ্বাস নিতো নগরবাসী। মাত্র দু’বছরের মাথায় পাল্টে গেছে সেই ছবি।

ধূলোয় ঢাকা এক নগর জীবন। পূর্ব-পশ্চিম বা মধ্য শহর-সবখানেই ধূলোর আস্তরণ। সড়কের কোল ঘেঁষা ফুটপাত এবং গলিপথ অনাদরে তার শ্রী হারিয়েছে।

কোটি টাকার ফুটপাত দখলে নিয়েছে হকার আর দোকানিরা। শৃঙ্খলা নেই নগর পরিবহণেও। চলাচলে পথচারীদের ভোগান্তি বেড়েছে। ধুলাবালুর জন্য দোকান পাটে কাজ করার সময় ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে বলে জানান দোকানিরা।

২০২২ সালের জনশুমারির হিসেবে, এক দশকে নগরে স্থায়ী মানুষ বেড়েছে ১ লাখের বেশি। আর দুই দশকে নগরায়ণ বেড়েছে ১৬ শতাংশ। ১৫ বছরে সবুজ কমেছে ১৯ শতাংশ এবং পুকুর-জলাশয় ৪ শতাংশ।

এসিডির উন্নয়ন কর্মী সুব্রুত কুমার পাল বলনে, ‘আমাদের এলাকায় নগর উন্নয়নে কাজ হচ্ছে ঠিকি। কিন্তু সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে না। এমনকি সিটি করপোরেশনেরও কোনো তদারকি করা হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন:

বারসিকের পরিবেশ আইন গবেষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নয়ন করতে গিয়ে গাছপালা বেশি নিধন করা হয়েছে। আমরা গাছপালা রেখে উন্নয়ন করতে পারতাম।’

সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য, সাময়িক দুরবস্থা দ্রুতই কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন। নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করছেন পরিবেশ ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, আরডিএ।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, ‘কেউ যদি জলাশয় ভরাট করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুস. তাছনিমা খাতুন বলেন, ‘এখানে আরডিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের যৌথভাবে পদক্ষেপ ও যৌথভাবে কাজ করা দরকার।’

নগরে উন্নয়ন কাজের অসতর্কতায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। পুকুর ভরাট ও তিনটি প্রকল্পের কারণে গত দেড় বছরে কাটা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার গাছ। যার ফলে দিনে দিনে বিপর্যয়ের পথে রাজশাহী।

জেআর