বরগুনায় ডিজেলের কৃত্রিম সংকটে উপকূলীয় মৎস্যজীবীরা; আশ্বাসেও মিলছে না সমাধান

উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের ট্রলার
এখন জনপদে
0

বিশ্ববাজারে অস্থিরতার দোহাই দিয়ে বরগুনার পাথরঘাটায় সৃষ্টি হয়েছে ডিজেলের কৃত্রিম সংকট। জ্বালানি সংকটে নদীতে যেতে পারছে না দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের হাজারো জেলে। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে উপকূলীয় মৎস্যজীবীরা। জেলা প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বরগুনা পাথরঘাটার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে যেখানে জেলেদের কর্মব্যস্ত থাকার কথা, সেখানে এখন সুনসান নীরবতা। সব প্রস্তুতি থাকার পরও তেলের অভাবে নোঙর করে আছে শত শত ট্রলার।

জেলেদের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আর হরমুজ প্রণালী বন্ধকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা জ্বালানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। দোকানে তেল থাকলেও নির্ধারিত দামে বিক্রি করছে না। ব্যারেল প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি দিলে মিলছে ডিজেল।

জেলেরা জানান, তারা সাধারণত ১০দিন করে পানিতে থাকেন। এখন তারা ৬ দিনের মাথায় চলে আসছেন। এতে তাদের খরচই উঠছে না। লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করলেও সরবরাহ ঘাটতির কথা স্বীকার করছেন ডিলার। তার দাবি, চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ খুবই সামান্য।

পদ্মা অয়েল কোং লিমিটেডের একজন ডিলার বলেন, ‘আমাদের চাহিদা পূরণ করা হয় না। সপ্তাহে চাহিদা ২০ হাজার লিটারের, আমি পাচ্ছি ৩ হাজার।’

আরও পড়ুন:

সাগরে জলদস্যু আতঙ্ক এবং ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট-সবমিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে ট্রলার মালিকরা। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতি সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘তেল কিনতে পারছে না। কোনোটিতে প্রয়োজন ১০ ব্যারেল কোনোটিতে প্রয়োজন ২০ ব্যারেল। বেশি টাকা দিয়ে তেল কিনে সাগরে যাওয়ার মতো সামর্থ্য এখন কারও নেই।’

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতি সহ-সভাপতি মো. আবুল হোসেন ফরাজি বলেন, ‘৪ হাজার ৫হাজার টাকা যে যেমন পারছে বেশি নিচ্ছে। বলছে তেল নেই, তবে টাকা বেশি দিলে তেল পাওয়া যাচ্ছে।’

এদিকে জ্বালানি সংকটে গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা। জেলা প্রশাসন বলছে, সংকটের পেছনে মজুতদারির প্রমাণ পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

বরগুনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ‘প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা প্রতিদিন সবকিছু তদারকি করবে। মজুত করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।’

আশ্বাস নয়, বরং দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করে সাগরে ফেরার নিশ্চয়তা চান উপকূলের জেলেরা।

এফএস