কৃষক কার্ড থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা সিরাজগঞ্জের চাষিদের

জমিতে সার প্রয়োগ করছেন কৃষক
এখন জনপদে
0

যমুনার চর আর চলনবিল বেষ্টিত সিরাজগঞ্জে উৎপাদিত ফসল জেলার চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকে বড় একটি অংশ। তবে সার-বীজ সংগ্রহ আর ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে বরাবরই বঞ্চনার শিকার এই অঞ্চলের প্রান্তিক ও বর্গা চাষিরা। ভোগান্তি কমাতে সরকার 'ডিজিটাল কৃষক কার্ড' চালুর উদ্যোগ নিলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য আর রাজনৈতিক প্রভাবে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা তাদের।

সিরাজগঞ্জকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের শস্য ভাণ্ডার। যমুনার চরাঞ্চল আর চলনবিলের উর্বর পলিমাটিতে বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় প্রায় সোয়া সাত লাখ টন।

জেলায় প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ কৃষক পরিবারের বড় অংশই ভূমিহীন বর্গা চাষি ও প্রান্তিক কৃষক। দেশের খাদ্য গুদাম সমৃদ্ধ করতে দিনরাত পরিশ্রম করলেও, সার-বীজ সংগ্রহ আর ফসলের ন্যায্য মূল্য পেতে বরাবরই ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।

তবে, সরকারের নতুন ডিজিটাল কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগে জেলার প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘোঁচানোর এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

প্রান্তিক কৃষকরা জানান, কৃষি কার্ড যদি কৃষক পায় তাহলে ভালো হবে। তারা সার, বীজ কিনতে পারবে। কৃষির উন্নয়ন হলে তা দেশেরও উন্নয়ন।

আরও পড়ুন:

নিয়ম অনুযায়ী ৫টি ভিন্ন শ্রেণির কৃষক তালিকায় ঠাঁই পেলেও, প্রতি পরিবার থেকে কেবল একজনই পাবেন এই সুযোগ। তবে, কৃষকদের দাবি এই কার্ড যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে প্রকৃত চাষিদের হাতে পৌঁছায়।

কৃষি বিভাগ বলছে, ডিজিটাল এই কার্ডের মাধ্যমে মিলবে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতির জন্য কৃষি-বীমাসহ ৭ ধরনের বিশেষ সুবিধা।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এ, কে, এম, মনজুরে মাওলা বলেন, সরকারি যেসব লোন আছে সে লোনগুলো কৃষকরা সহজে পাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যে ক্ষতি হয় এ কার্ডের মাধ্যমে সেসব ক্ষতিপূরণ দেয়া সহজ হবে।

আগামী ১৪ এপ্রিল প্রাথমিকভাবে দেশের ২১ হাজার ১৪ জন কৃষককে এই কার্ড দেয়া হবে। দেশব্যাপী এই প্রকল্পের সফল প্রয়োগ পাল্টে দিতে পারে জেলার গ্রামীণ অর্থনীতি।

ইএ