তৃতীয় লিঙ্গের ইউপি সদস্যের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ যুবদল-ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

মোছা. বিজলী খাতুন
অপরাধ
এখন জনপদে
0

‎পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন বনওয়ারীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য (মেম্বার) মোছা. বিজলী খাতুন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ঘর নির্মাণে বাধা, প্রাণনাশের হুমকি এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

গতকাল (‎সোমবার, ১৩ এপ্রিল) ভুক্তভোগী বিজলী খাতুন নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদের এক সাধারণ সভায় বনওয়ারীনগর বাজারের একটি দোকান সংলগ্ন এলাকায় পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় বিজলী খাতুনকে ঘর নির্মাণের জন্য আধা শতাংশ জমি বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভার রেজুলেশন ও নিয়ম মেনেই তাকে এই জমি বরাদ্দ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:

‎বরাদ্দকৃত জায়গায় থাকা জরাজীর্ণ দু’টি ছোট বন করই গাছ অপসারণ করে দোকান ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিতেই বিপত্তি শুরু হয়। বিজলী খাতুনের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী আমিন উদ্দিন সাবেরী (উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক রাজিবুল হক পান্তু এবং বনওয়ারীনগর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক টিপুসহ একদল ব্যক্তি তার কাজে সরাসরি বাধা প্রদান করেন।

‎ভুক্তভোগী মেম্বার দাবি করেন, অভিযুক্তরা তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। এমনকি তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে তিনি নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক বরাবর দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

‎ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য বিজলী খাতুন বলেন, ‘‎আমি একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হয়েও জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। অথচ আজ আমি নিজ এলাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার পরও আমাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, উল্টো চাঁদা চাওয়া হচ্ছে।’

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:

‎বিচারের আশায় বিজলী খাতুন এরইমধ্যে অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছেন।

‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিন উদ্দিন সাবেরী ও রাজিবুল হক পান্তুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইমামা বানিন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‎একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হয়েও যদি সরকারি জমি বুঝে পেতে এমন বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?—এমন প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলে। দ্রুত এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজলী খাতুনের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

এসএস