বিপন্ন শীতলক্ষ্যা: শিল্পবর্জ্যে কালো নদী, বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি

নারায়ণগঞ্জ
শিল্প বর্জ্য ও বিষাক্ত পানিতে দূষিত শীতলক্ষ্যা নদী
পরিবেশ ও জলবায়ু
এখন জনপদে
0

নারায়ণগঞ্জে দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে পরিবেশ দূষণ। শিল্পকারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য ও নগরীর পয়ঃনিষ্কাশনের ময়লা সরাসরি নদীতে পড়ায় মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে উঠেছে শীতলক্ষ্যা নদী। পানির রং কালো হয়ে যাওয়া এবং তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা।

শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এ জেলায় তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাড়ে তিনশোরও বেশি। কাগজে-কলমে অনেক কারখানায় পানি শোধনের জন্য ইটিপি (এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) থাকলেও বাস্তবে বেশিরভাগ সময় তা চালু থাকে না।

অভিযোগ রয়েছে, উৎপাদন খরচ কমাতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান রাতের অন্ধকারে রাসায়নিক বর্জ্য মিশ্রিত পানি সরাসরি ক্যানেল ও ড্রেনে ছেড়ে দেয়। এমনকি আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিছু প্রতিষ্ঠান ইটিপি ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ইটিপি থাকা ও না থাকা—দুই ধরনের কারখানার বর্জ্য একসঙ্গে খাল-নালার মাধ্যমে গিয়ে পড়ছে শীতলক্ষ্যা নদীতে।

প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত ক্যানেল, ড্রেন ও খাল দিয়ে এসব দূষিত পানি নদীতে মিশছে। এতে নদীর পানি কালো রং ধারণ করেছে এবং আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ।

নদীর পাশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেককেই নাকে রুমাল চেপে যেতে হচ্ছে। দূষণের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে বিভিন্ন রোগব্যাধি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।

পরিবেশবাদীদের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দূষণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাদের মতে, লোক দেখানো জরিমানা বা সাময়িক ব্যবস্থা দিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ কমাতে দ্রুত সেন্ট্রাল ইটিপি প্ল্যান বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জে অন্তত ৬০টি প্রতিষ্ঠানে কোনো ইটিপি নেই। এছাড়া ৩৬০টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি থাকলেও নিয়মিত তা চালানো হয় না।

পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ জানান, দূষণকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং জরিমানা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের সচেতনতা ছাড়া এ সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম জানান, নগরীর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন করে সেন্ট্রাল সুয়ারেজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে নদী দূষণ অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এএইচ