মির্জাপুরে অবৈধ ইটভাটার ধোঁয়ায় পুড়ছে কয়েকশো একর জমির ধান

টাঙ্গাইল
পুড়ে যাওয়া জমির ধান
এখন জনপদে
0

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবৈধ পাঁচটি ইটভাটার চিমনির বিষাক্ত ধোঁয়ায় ছয়টি গ্রামের শত শত একর জমির বোরো ধান পুড়ে গেছে। ওইসব গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত দুই শতাধিক কৃষক ক্ষতিপূরণের দাবিতে গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোট বহুরিয়া, বহুরিয়া চড়পাড়া, বুধিরপাড়া, মন্দিরাপাড়া, ভাওড়া ইউনিয়নের সরিষাদাইড় ও ভাওড়া গ্রামে কয়েকটি প্রজেক্টের আওতায় কয়েকশ একর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। এসব জমির ধান পর্যায়ক্রমে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কৃষক কাটা শুরু করবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোড়াই ও বহুরিয়া ইউনিয়নের ৬টি গ্রামে আবাদি জমির মধ্যে পাশাপাশি কয়েকটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ওইসব ইটভাটার চারপাশেই এফবিসি, আরইউবি, সান, হাদি এবং এনএসটি ব্রিকস এর ইট পোড়া বন্ধ করা হয়। এসব ভাটার গ্যাস নির্গত হয়ে ৬টি গ্রামের কয়েকশ একর জমির বোরো ধান পুড়ে গেছে। এসব জমির ধানগাছের পাতা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে।

বুধিরপাড়া গ্রামের বিধবা ফাহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। এই জমি থেকে এক বছরের ধান তার ঘরে উঠে। এবার ভাটার ধোঁয়ায় তা পুড়ে গেছে। সন্তানদের নিয়ে আগামী বছর কি খাবেন এই আক্ষেপ করেন তিনি।

মন্দিরাপাড়া গ্রামের কৃষক নূরতাজ হোসেন স্বপন জানান, সারা বছর খাওয়ার ধান যে জমি থেকে আসে সেই জমির ধান ইটভাটার গ্যাসে পুড়ে গেছে। আগামী এক বছর আমাদের কিভাবে চলবে বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এফবিসি ব্রিকসের মালিক আকবর হোসেন বলেন, ‘তাদের ভাটার ধোঁয়া গত দুই সপ্তাহ আগে ছাড়া হয়েছে।’ আর কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে ৩-৪ দিনের মধ্যে। এছাড়া আরইউবি, সান, হাদি এবং এনএসটি ব্রিকস এর ধোঁয়াও ছাড়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন:

আরইউবি ব্রিকসের মালিক ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘শুধু আমার ভাটার ধোঁয়া নয়, কয়েকটি ভাটা বন্ধ করা হয়েছে। ওইসব ভাটার ধোঁয়াও ছাড়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে ভাটার সমিতির নেতৃবৃন্দের কথা হয়েছে। তারা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।’

হাদী ব্রিকসের মালিক স্বপন মিয়া বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগের কথা শুনে বুধিরপাড়া সরজমিন পরিদর্শন করেছেন।’

মির্জাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা পাওয়ার পর সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষতির তালিকা নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে।’

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘ইতোমধ্যে জমির ধান ও তিনটি ইটভাটা পরিদর্শন করা হয়েছে। তাঁদের ছাড়পত্র নেই। খুব দ্রুত ইটভাটাগুলো বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব তার অফিস থেকে নিচে এসে কৃষকদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন এবং ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন।

এছাড়া কৃষকদের ধান ক্ষতি হওয়ার বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ক্ষতি নিরূপণের নির্দেশ দেন।

ইএ