মারা গেছে বন্য মা হাতি; তবু ছেড়ে যেতে নারাজ ছোট্ট শাবক

বন্য মা হাতির মরদেহ আঁকড়ে আছে ছোট্ট শাবক
এখন জনপদে
0

কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামু সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়ানো অসুস্থ এক বন্য মা-হাতির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর পরও মায়ের নিথর দেহ ছেড়ে যায়নি তার ছোট্ট শাবক। মরদেহ ঘিরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান নেয় আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির একটি দল। শাবক হাতিটির করুণ ডাকে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

গতকাল (রোববার, ১৭ মে) সকালে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় গিয়ে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হন স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের কর্মীরা।

এর আগে, শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।

তিনি জানান, মৃত বন্য হাতিটির বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। গত এক সপ্তাহ ধরে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, রামু উপজেলার ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার পাহাড়ি বনাঞ্চল ও লোকালয়ের আশপাশে অসুস্থ ও দুর্বল অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিলো হাতিটিকে।

স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে মা হাতিটি তার ছোট্ট শাবককে সঙ্গে নিয়ে লোকালয়ের আশপাশে ঘুরছিলো। শুক্রবার রাতেও হাতিটি তার বাড়ির আশপাশে অবস্থান নেয়। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘সকালে গিয়ে দেখি হাতিটা মারা গেছে। ছোট্ট শাবকটা মৃত মায়ের পাশ ছাড়ছিলো না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে করুণ সুরে ডাকছিলো। দৃশ্যটা খুবই হৃদয়বিদারক ছিলো।’

আরও পড়ুন:

স্থানীয়রা জানান, মা হাতির মৃতদেহ ঘিরে আশপাশের পাহাড়ে আরও ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতিকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের ধারণা, হাতির দলটি মৃত হাতিটিকে পাহারা দিচ্ছিলো।

খবর পেয়ে রোববার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তীতে হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই মাটি চাপা দেয়া হয়।

রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণেই হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ি বনাঞ্চল উজাড়, খাদ্য সংকট ও মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে বন্য হাতিগুলো ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। এতে যেমন মানুষ আতঙ্কে থাকছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যপ্রাণীরাও।’

তিনি বলেন, ‘মা হাতির নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে শাবকের অসহায় ডাক যেন আবারও মনে করিয়ে দিলো, বন হারালে শুধু গাছ নয়, হারিয়ে যায় প্রাণের সম্পর্কও।’

এসএইচ