নিহত ইখলাস গাজী রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা দক্ষিনপাড়া গ্রামের মৃত দুলাল গাজীর ছেলে। তিনি রামপাল সদর ইউনিয়নের যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের গাড়ি চালক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী দোকানী হুমায়ুন বলেন, ‘ইখলাস গাজী চা খেয়ে বেঞ্চের ওপর বসা ছিলো। কিছুক্ষণ পরে মাহাবুবুর রহমান শিকদার ওরফে মাইঝে শিকদার নামের এক ব্যক্তি এসে দূর থেকে ইখলাসকে গালিগালাজ করেন। কিছুক্ষণ গালিগালাজ করার পরে ইখালসকে এসে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। কেউ ঠেকাতে আসেনি। এক পর্যায়ে ইখলাস শিকদার পরে গেলে সেখান থেকে চলে যায় মাহাবুবুর রহমান শিকদার।
আরও পড়ুন:
নিহতের বড় ভাই ইলিয়াস গাজী বলেন, ‘মাহাবুবুর রহমান শিকদার ওরফে মাইঝে শিকদারসহ চার-পাঁচজন লোক ইলিয়াস গাজীকে বেধড়ক মারপিট করেছে। তারা কোনো লাঠি বা অস্ত্র ব্যবহার করেনি, হাত দিয়েই মাথা, বুক, কানসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছে। তাদের আঘাতেই ইখলাস গাজীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন বড় ভাই ইলিয়াস গাজী।’
পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা ইখলাসকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল বলেন, ‘মৃত অবস্থায়ই ইখালস গাজীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার শরীরে কোনো অস্ত্রের আঘাত ছিলো না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’
রামপাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা মামলা দেয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে মামলা দায়ের করা হবে।’





