নওগাঁয় ফ্রুট ব্যাগিংয়ে দ্বিগুণ খরচ: কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আম চাষিরা

ফ্রুট ব্যাগিং করা হচ্ছে
এখন জনপদে
0

আমের জেলা নওগাঁয় রপ্তানিযোগ্য এবং কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদন ও ভাল দাম পেতে ফ্রুট ব্যাগিং করছেন চাষিরা। তবে এবছর চাহিদামতো ফ্রুট ব্যাগ পাননি চাষিরা। যা পাওয়া গেছে তাও কিনতে হয়েছে দ্বিগুণ দামে। এতে আমের কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা তাদের।

নওগাঁর আম বাগানগুলোর অন্তত ৭০ শতাংশ রয়েছে সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলায়। আম্রপালি, গোপালভোগ, খিরসাপাত, হিমসাগর ও বারী-৪ সহ প্রায় ১৬ জাতের আম উৎপাদন হয় এখানকার বাগানগুলোতে। রপ্তানিযোগ্য এবং কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদন ও ভাল দাম পেতে এখানকার চাষিরা ফ্রুট ব্যাগিং করেন। তবে এবার ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় বহু চাষি আমে ব্যাগিং করতে পারেননি।

চাষিরা জানান, এপ্রিল মাসে প্যাকিং করতে হয়। প্যাকিং করার মূল উদ্দেশ্য হলো— পোকা-মাকড়, মাছি থেকে দূরে, মানে পরিষ্কার থাকে প্যাকিংটা করার জন্য। রপ্তানিগুলোর দামে একটু পাওয়া যাবে, সহজে পাওয়া যাবে। কারণ দামের দিকে একটু বেশি হলে একটু পোষাবে। কারণ তাছাড়া পোষাচ্ছেনা আম বিক্রি করে।

২২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান করেছেন পোরশার রায়হান আলম। এবছর ৬০ বিঘা জমির প্রায় ৫ লাখ পিস আমে ব্যাগিং করার আশা ছিল তার। চাহিদামতো ব্যাগ না পাওয়ায় আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো ও বারি-৪ আমে ব্যাগিং করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে সাড়ে ৪ লাখ পিস গৌড়মতি আমে ব্যাগিং করেছেন তিনি। প্রতিটি ব্যাগ কিনতে হয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৬ টাকা ২০ পয়সায়। এতে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।

আরও পড়ুন:

চাষিরা জানান, এবার প্যাকেটের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে শুধু গৌড়মতিতে প্যাকেট করা গেছে। অন্য কোনো আমে করা সম্ভব হয় নি।

নওগাঁর আরেকজন চাষি বলেন, ‘গত বছর আমি এই সেই কোম্পানিরটা কিনছিলাম ৩ টাকা ৮০ পয়সা। এ বছর আমি ৩ টাকা ৮০ পয়সা তো পাচ্ছি না, ৬ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত দাম। তারপরও আমি ব্যাগ পাচ্ছি না। এই ব্যাগ না পাওয়ার কারণে আমগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পোকার উপদ্রব হচ্ছে।’

চাষিরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আমের ফলন ভাল হয়েছে। নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় কমেছে রোগবালাই। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সরাসরি রপ্তানি করতে না পারায় বাধ্য হয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হয় আম।

পোরশা তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসার আফজাল হোসেন বলেন, ‘গ্র্যাপিং পদ্ধতিটা কৃষকরা উপকৃত হবে যে, এটা গ্র্যাপ মেইনটেইন করলে আমের দামটা বেশি পাবে। মানে এই আমটা বাইরে যাবে। আমে ট্যাগ লাগানো থাকবে, যেমন আমরা অন্যান্য পণ্যে যেমন ট্যাগ দেখি।’

রপ্তানিযোগ্য ও কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদন এবং ভাল দাম পেতে কৃষকদের মাঝে ব্যাগিংয়ের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে কৃষি বিভাগ থেকে ব্যাগ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে চাহিদামতো ব্যাগ সরবরাহের জন্য বলা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, ‘গ্যাপ প্রযুক্তি এবং সেই সাথে স্পেশালি ব্যাগিং প্রযুক্তিটা আমাদের প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকল্পের সহায়তায় বেশ বিস্তার লাভ করেছে। এভাবে দেখে সাধারণ কৃষকরাও, যারা আমাদের প্রদর্শনীর আওতায় না, তারাও বেশ আগ্রহী হয়েছে এবং প্রচুর পরিমাণে ব্যাগিং হয়েছে।’

জেলার ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমির আম বাগান থেকে এবার অন্তত ৪২৫ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইএ