ধান মাড়াইয়ে দেরি হওয়ায় শ্রমিককে ‘মারধর’, পরে রহস্যজনক মৃত্যু

শ্রমিককের রহস্যজনক মৃত্যু
এখন জনপদে
2

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় এক কৃষিশ্রমিকের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ধান মাড়াই করতে সামান্য দেরি হবে বলায় জামিল হোসেন নামের এক শ্রমিককে মারধর করেছেন স্থানীয় ইউসুফ আলী। এর কিছুক্ষণ পর জামিল হোসেন নিজ ভাড়া বাসায় ফিরে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান।

অভিযুক্ত ইউসুফ আলী স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় ও স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্রায় ২০ দিন আগে ধান মাড়াইয়ের কাজ করতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে জামিল হোসেন তার মেয়ে, মেয়ের জামাই ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ভাঙ্গুড়ায় আসেন। তারা উপজেলার কৈডাঙ্গা গ্রামে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে নিজেদের মেশিন দিয়ে চুক্তিভিত্তিক ধান মাড়াইয়ের কাজ করতেন।

অভিযোগ উঠেছে, গতকাল (শনিবার, ২০ জুন) বিকেলে ইউসুফ আলী ওই শ্রমিকদের নিজের ধান মাড়াই করে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। জামিল হোসেন অন্য কাজ থাকায় ‘কিছুটা দেরি হবে’ বলে জানালে ইউসুফ আলী চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ধান মাড়াই মেশিনের চাবি কেড়ে নেন। পরে জামিল চাবি ফেরত চাইলে ইউসুফ আলী ওই লোহার চাবি দিয়েই জামিলকে মারধর করেন। মারধরের পর জোরপূর্বক তাদের দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধান মাড়াইয়ের কাজ করিয়ে নেন ইউসুফ। সন্ধ্যায় কাজ শেষ হলে জামিলকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে জামিল হোসেন শরীর ও বুকে প্রচণ্ড অসুস্থতা অনুভব করেন। ক্লান্তি ও ব্যথা দূর করতে তিনি পাশের নদীতে গোসল করতে যান। কিন্তু গোসল শেষে ঘরে ফেরার পরপরই তার অসুস্থতা আরও বেড়ে যায় এবং একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্বজনদের অভিযোগ, মারধরের কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি কৈডাঙ্গা গ্রামে তার বাড়িতে গিয়েও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আজ (রোববার, ২১ জুন) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ‘মরদেহের গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জেআর