অকেজো ট্রাফিক লাইট, লাঠির ইশারায় চলছে রাজশাহীর যানবাহন নিয়ন্ত্রণ

রাজশাহী
রাজশাহীর ট্রাফিক ব্যবস্থা
এখন জনপদে
0

রাজশাহী মহানগরীতে প্রতিদিন বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। তবে সেই তুলনায় এখনো আধুনিকায়ন হয়নি ট্রাফিক ব্যবস্থা। সনাতনী উপায়ে চলছে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। কয়েক যুগ আগে চলমান অটোমেটিক ট্রাফিক লাইটগুলো এখন অকেজো, জীর্ণ-শীর্ণ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হাত কিংবা লাঠির ইশারায় চলে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ। এতে যানজটের পাশাপাশি বাড়ছে জনভোগান্তি।

বাহারি সড়ক বাতির নগরে সড়ক নিয়ন্ত্রণের বাতিই অকেজো। প্রায় দুই দশক ধরে বন্ধ থাকায়, ভেঙেচুরে নষ্ট হয়েছে সবটাই। বাসা বেঁধেছে পাক-পাখালির দল, মলিন হয়েছে সবুজ নগরের লাল-নীল-হলুদ বাতির ফ্রেম।

বছরের পর বছর ধরে নগর ট্রাফিকে পড়েনি আধুনিক প্রযুক্তরি ছোঁয়া। নেই কার্যকর স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল মনিটরিং। তাতে ভেঙে পড়েছে নগর যানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

একজন পথচারী বলেন, ‘বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও সেখানে ডিজিটাল ইকুইপমেন্টস এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবে কোনো ধরনের ট্রাফিক সিস্টেম নাই, রুলসও নাই।’

হাসপাতালগামী পথ, বাজার-ঘাট কিংবা তালাইমারি, সোনাদিঘীর পাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো পথেও নেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ। এসব পথে প্রায়ই দেখা যায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী কিংবা চালকরা।

আরও পড়ুন

একজন চালক বলেন, ‘ট্রাফিক যখন হাত ওঠায়, তখন আমরা দাঁড়াই। দাঁড়ালে পিছন থেকেই গাড়ি এসে অনেক সময় ধাক্কা দেয়। যার ফলে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে।’

দুই হাত, লাঠি বা বাঁশি দিয়ে ট্রাফিকের ম্যানুয়াল এ নিয়ন্ত্রণে সামলানো যায় না যানবাহনের চাপ। আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা না থাকায় ট্রাফিকের এ অতিরিক্ত পরিশ্রম।

এ অবস্থার উত্তরণে নগর নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা ও নিরাপদ চলাচলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের এ কর্মকর্তা। আর নগর প্রশাসক বলছেন, সমন্বিত উদ্যোগে নাগরিকদের আধুনিক সেবা দ্রুতই নিশ্চিত করা হবে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘বেসিক আধুনিকায়নের যে জায়গাটা, সেটা হচ্ছে একটা ডিজিটাল সিগন্যাল সিস্টেম। আমাদের রাজশাহী শহরে এখনো আমরা সেই ডিজিটাল সিগন্যাল সিস্টেম চালু করতে পারিনি। যদিও আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি, কাজ করে যাচ্ছি। সিটি করপোরেশন আন্তরিক।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘আমরা এ লাইটগুলো এবং এআই সিস্টেমটা আমাদের চালু করা হচ্ছে। আমরা আধুনিকায়ন করার জন্য খুবই চেষ্টা করছি দীর্ঘদিন ধরে, আসলে আমাদের এখানে এখনও ডিজিটালাইজেশন নেই, ম্যানুয়ালি চলতো। সেটিকে ডিজিটালে নিয়ে আসার জন্য কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছি।’

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, এআই যুক্ত সিসিটিভি, নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা গেলে শুধু যানজটই কমবে না, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

জেআর