ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে পথচারীদের নিরাপদ পারাপারে নির্মাণ করা হয়েছে ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ। তবে ব্রিজ ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মহাসড়ক পার হন অধিকাংশ মানুষ। এর মধ্যে মহিপাল এলাকার ফুটওভার ব্রিজটি যেন মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে লালপুল এলাকার ফুটওভার ব্রিজের একাংশ দখল করে বসানো হয়েছে জেনারেটর। এসব কারণে পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ পারাপারে রয়েছে অনীহা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘ফুট ওভারব্রিজে অনেক সময় মাদকসেবীদের আস্তানা হয়। ওরা ওইখানে বসে। মানুষের ভয়ে আতঙ্কে অনেক সময় ওইটা ব্যবহার করে না।’
অন্য একজন বলেন, ‘মোহরিগঞ্জ তারপরে সমিতি বাজার, কয়েকটা ফ্লাইওভার আছে, এটা মানতে চায় না। মানুষ দেখতেছি আপনার আপনার অলরেডি সরকারে এটা গভর্নমেন্টে এটা কইরা দিছে যে এখান থেকে পারাপার না হওয়ার জন্য।’
পথচারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ফুট ওভারব্রিজ ইউজ করে না। কিন্তু সরকার যদি এটা আরও সামনে দিয়ে অফটা করে দিত, তাহলে এখান দিয়ে আসার আর সুযোগ পেত না। যদি সুযোগটা না থাকত তাহলে মানুষ অবশ্যই জিনিসটা ইউজ করত।’
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর ফেনী সদরের মোহাম্মদ আলী, মহিপাল, লালপুল, লেমুয়া, ফাজিলপুর ও মুহুরীগঞ্জ এলাকায় নির্মাণ করা হয় ছয়টি ফুটওভার ব্রিজ। প্রতিটি ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৫ লাখ টাকা। অনেকটা অব্যবহৃত এসব ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধসহ তদারকি বাড়ানোয় দাবি স্থানীয়দের।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘ব্যারিয়ার না থাকার কারণে মানুষ খুব সহজেই দ্রুত পারাপার হইতে পারে। এজন্য ফুট ওভারব্রিজের উপর দিয়ে একটু লং দূরত্বে না গিয়ে মানুষ শর্টকাটে মহাসড়কের মাঝে মাঝে অসচেতনভাবে চলাফেরা করে।’
অন্য একজন বলেন, ‘মানুষ অসচেতনতার কারণে এই ফুট ওভারব্রিজটি ব্যবহার না করার কারণে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’
হাইওয়ে পুলিশ ও ফেনী সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলছে, পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করতে মহাসড়ক বিভাজনীতে উঁচু করে বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। তবে সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, ‘ওই গ্যাপগুলো আমরা গাইড পোস্ট দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার পরও আবার সরাইয়া ইউজ করে। যে কারণে হুট করে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। তবে আমাদের তো সবসময় এভাবে পাহারা দেয়া সম্ভব না বা হাইওয়ে পুলিশের পক্ষেও এটা সম্ভব নয় বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। সেজন্য আমাদের সবার উচিত যে নিজের জীবনটা আগে ভালোবাসতে হবে।’
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য মতে, গত ছয় মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ২৯টি। এতে নিহত হয়েছেন ১৯ জন। আহত হয়েছেন ৩১ জন। অধিকাংশ ঘটনার পেছনের কারণ অজ্ঞতা ও অসচেতনতা।





