পায়রা নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকিতে পটুয়াখালীর ফসলি জমি ও বসতঘর

পটুয়াখালী
নদী ভাঙনের ফলে বসতঘর হারানো এক বৃদ্ধ
এখন জনপদে
0

কয়েক যুগ ধরে পায়রা নদীতে তীব্র স্রোতে ভাঙছে পটুয়াখালীর গ্রামের পর গ্রাম। এবার বর্ষার শুরুতেই নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় ফসলি জমি ও বসতঘর রক্ষায় শঙ্কিত গ্রামবাসী। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের। এদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

আপাতদৃষ্টিতে পায়রা নদীকে শান্ত মনে হলেও দুই তীরের ভাঙনের দৃশ্য হৃদয় কাঁপিয়ে দেয়। এই নদীর ভাঙনে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পিঁপড়াখালী গ্রামের খবির শিকদার পাঁচবার বসতবাড়ি ও জমি হারিয়েছেন। নতুন করে আবার ভাঙন দেখা দেয়ায় দিশেহারা তিনি।

ভুক্তভোগীরা জানান, নদী ভাঙনের ফলে তাদের বসতভিটা ভেঙে যাচ্ছে। বসতবাড়ি ও জমি হারিয়েছেন গ্রামের অনেকে।

তীব্র ভাঙনে মির্জাগঞ্জের পিঁপড়াখালী, সুন্দরা কালিকাপুর এবং কালিকাপুর গ্রামের ফসলি জমি, বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন তীব্র হওয়ায় আতঙ্কিত বহু পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন বলেন, আমার বাড়ি হেলে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন:

ধারাবাহিক ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্টদের কর্মপরিকল্পনা না থাকায় দুমকির বাহেরচর, আঙ্গারিয়া এবং মির্জাগঞ্জের তিনটি গ্রাম যুগের পর যুগ ধরে ভাঙছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী সুরাহা না হওয়ায় বিপাকে অসহায় মানুষ।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. শাহজাহান খান বলেন, ‘স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান করা হলে এর থেকে আমরা পরিত্রান পেতে পারি।’

চলতি বছর পটুয়াখালী পাউবো সার্কেলে নদী ভাঙন রোধে নির্মিত বেড়িবাঁধে নতুন করে ৭ কিলোমিটার সংস্কার করা হলেও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ১০ কিলোমিটার বাঁধ। ভাঙনের তীব্রতা বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের কথা জানালেন এ কর্মকর্তা।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, ‘প্রায় ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আমরা নজরদারি রাখছি। কোনো খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সমস্যার সমাধান হবে এমনটাই প্রত্যাশা।

এফএস