প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পর্যটকের ভিড়ে মুখর থাকে পর্যটন নগরী বান্দরবান। বর্ষায় প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে এ জেলায়। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষনের কারনে পাহাড় ধস ও বন্যার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় পর্যটক ও জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ১২ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এই ঘোষনার পর থেকে একদিকে যেমন পর্যটকের সমাগম বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে একের পর এক বুকিং বাতিল করছেন পর্যটকরা।
এছাড়াও সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় থানচি উপজেলার রেমাক্রী, নাফাখুমসহ আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রে আটকে পড়েছে শতাধিক পর্যটক। তাদের উদ্ধারে কাজ করছে থানচি উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে বর্ষার মৌসুমে পর্যটক না থাকায় শুধু হোটেল-মোটেল নয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, গাইড ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে— এমন প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।
আরও পড়ুন:
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, হঠাৎ তিন দিনের নিষেধাজ্ঞায় তাদের হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে অনেক বুকিং বাতিল হয়েছে। যারা বাতিল করছেন, তারা কোনো রিশিডিউল না করে সরাসরি বাতিল করে দিচ্ছেন বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া এরকম পরিস্থিতিতে পর্যটন শিল্প অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে এবং ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তারা।
এদিকে দুর্যোগময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ‘সাত উপজেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে এবং সেগুলোতে সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও আছে। এখন পর্যন্ত কোথাও সেরকম দুর্ঘটনা হয়নি। তবে দু-একটা জায়গায় পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হয়েছে। সারা রাত কাজ করে সেগুলো আমরা ঠিক করে দিয়েছি, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন।’
প্রকৃতির বৈরী রূপে আপাতত থমকে গেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন জেলা বান্দরবান। এখন ব্যবসায়ীদের একমাত্র প্রত্যাশা আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক হলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে পাহাড়ের পর্যটন শিল্প।





