১৯ বছর ধরে বন্ধ সিরাজগঞ্জ স্পিনিং মিল; নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ স্পিনিং অ্যান্ড কটন মিলস
এখন জনপদে
0

সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের রহমতগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘সিরাজগঞ্জ স্পিনিং অ্যান্ড কটন মিলস’ এখন শুধুই স্মৃতি। একসময় হাজারো শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখরিত এ কারখানা সচল রেখেছিল এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা। কিন্তু নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে মিলটি। অযত্নে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও সম্পদ। পরিত্যক্ত এ চত্বর এখন পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আখড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি উদ্যোগে আবারও চালু করা হোক ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প প্রতিষ্ঠান।

যেখানে একসময় দিন-রাত ঘুরতো উৎপাদনের চাকা, শ্রমিকের ব্যস্ততায় মুখর থাকতো পুরো এলাকা—সেই জায়গায় এখন নেমেছে নীরবতা। সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত ভবন আর মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি।

স্থানীয় তাঁত শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৬৬ সালে প্রায় ২৩ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সিরাজগঞ্জ স্পিনিং অ্যান্ড কটন মিলস’। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে জাতীয়করণের পর বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের অধীনে দীর্ঘদিন উৎপাদনে ছিলো প্রতিষ্ঠানটি। একসময় এ মিল ছিলো সিরাজগঞ্জের অন্যতম বড় কর্মসংস্থানের কেন্দ্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আধুনিকায়ন না হওয়া, পুরনো যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল সংকট ও আর্থিক অব্যবস্থাপনায় ধীরে ধীরে লোকসানের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাংক ঋণসহ নানা দেনার চাপে ২০০৭ সালের জুলাই মাসে বন্ধ হয়ে যায় মিলের উৎপাদন। মুহূর্তেই কর্মহীন হয়ে পড়েন প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। মিল বন্ধের প্রায় দুই দশক পার হলেও অনেক শ্রমিক এখনো পাননি তাদের পাওনা টাকা। কেউ কেউ পাওনার অপেক্ষায় জীবন পার করেছেন, আবার অনেকেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, অনেক কর্মজীবী-পেশাজীবী লোক এখানে কাজ করেছে। কারখানাটি বন্ধ হওয়া এখন বেকারত্ব ও অসহায়ত্ব জীবনযাপন করছে তারা।

আরও পড়ুন

স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে আধুনিকায়নের মাধ্যমে মিলটি পুনরায় চালু করা গেলে একদিকে যেমন তাঁত শিল্পের কাঁচামালের সংকট কমবে, অন্যদিকে তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘তাঁত রিলেটেড কোনো নতুন ও আধুনিক রূপে কিছু শুরু করলে সিরাজগঞ্জের বেকারত্ব দূর হবে। আর আমাদের পণ্য তৈরি হবে, এই পণ্য তৈরি করে সারা বাংলাদেশে এটা ছড়িয়ে দেয়া যাবে।’

এদিকে প্রাইভেট সেক্টরের মিল গুলো চালুর ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে নীতিগত সহায়তার কথা জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম বলেন, ‘গত নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে বলেছিল বন্ধ পাটকল বা টেক্সটাইল মিল বা যেকোনো ইন্ডাস্ট্রি সেগুলোকে আমরা নতুন করে চালু করব। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যদি নীতিগত কোনো সহায়তা, যে কোনো বিষয়ে সহায়তা প্রয়োজন হয়, আমরা প্রাইভেট সেক্টরকে আমরা উৎসাহ করি এবং সহযোগিতা প্রদান করি।’

সদিচ্ছা আর আধুনিকায়নের অভাবে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প প্রতিষ্ঠান কীভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে, তার এক জীবন্ত উদাহরণ ‘সিরাজগঞ্জ কটন অ্যান্ড স্পিনিং মিল’।

স্থানীয়রা বলছেন, লোকসানের গণ্ডি পেরিয়ে আবারও সরকারি উদ্যোগে মিলটি চালুর ব্যবস্থা করা গেলে স্থানীয় তাঁতিদের সুতার চাহিদা যেমন পূরণ হবে, তেমনি সচল হবে এ অঞ্চলের অর্থনীতির অবরুদ্ধ চাকা।

জেআর