স্বৈরাচার, জালিম ও ফ্যাসিস্ট শাসকরা নজরুলকে ভয় পেয়েছে: লতিফুল ইসলাম

টাঙ্গাইল
লতিফুল ইসলাম শিবলী
এখন জনপদে
0

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক, সাহিত্যিক ও কবি মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের যে পরিবর্তন হয়েছে, তার আগে কি ছিলো? নজরুলকে সমস্ত স্বৈরাচার, সমস্ত জালিম, ফ্যাসিস্ট শাসকরা নজরুলকে ভয় পেয়েছে। এই কারণে গত ১৬ বছর নজরুলকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। নজরুল চর্চাকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। কারণ নজরুল যদি পড়ে, তাহলে মানুষের ভেতরে দ্রোহের চেতনা জেগে উঠবে। কারণ নজরুল যদি পড়ে তাহলে দ্রোহের চেতনা জাগ্রত হবে।

আজ (বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘ন্যায়ের পক্ষে আপোষহীন নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইন্সটিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি একজন শহিদের কথা সবসময় আলোচনা করি। শহিদ ওমর ফারুক চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহিদ হয়েছেন। তার এক সপ্তাহ আগে নিজের ছবি ফেসবুকে দিয়ে লিখেছিলেন “চিরো উন্নত মমশির”। যেসময় দ্রোহের প্রয়োজন হয়েছে, সেসময় ওমর ফারুকের মতো ছেলেরা নজরুলের কাছ থেকে ডেসপেরশন পেয়েছে। ডেসপেরেশন পাওয়ার পর তারা নিজেরা জীবনকে রাজপথে উৎসর্গ করেছেন। এবারের অভ্যুত্থানে শহরের দেয়ালে দেয়ালে একজন কবির কবিতা অঙ্কুরিত ছিলো, তিনি হলেন কাজী নজরুল ইসলাম।’

আরও পড়ুন:

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার নজরুলের প্রয়োজনীয়তা ভিশনভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। যার ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বছরকে নজরুল বছর হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি, তার সরকার ও তার দল উপলব্ধি করতে পেরেছেন বাংলাদেশকে স্বৈরাচারমুক্ত রাখতে হলে, বাংলাদেশকে জালিমমুক্ত রাখতে হলে বিপুল পরিমাণ নজরুল চর্চার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী রাজনীতির মতো চিন্তা করলে তিনি মুজিব বর্ষের মতো জিয়া বর্ষের ঘোষণা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি করেছেন নজরুল বর্ষ। নজরুলকে পাঠ করা আমাদের ভীষণভাবে জরুরি। আমাদের সন্তানরা বার বার ক্রাইসিসের সময় রাস্তায় জীবন দিয়েছেন। যার ফলে আমাদের দেশকে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।’

কবি মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী বলেন, ‘একদল মানুষ চিন্তা করেন মানুষদের কীভাবে শাসন করা যায়, শোষণ করা যায় ও লুটপাট করা যায়। তাই যত বেশি নজরুল চর্চা হবে তবে যারা আমাদের শোষণ করতে চায়, তত বেশি তটস্থ থাকবে। তাই নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে আমরা “ন্যায়ের পথে আপোষহীন নজরুল” শিরোনামে আলোচনা সভার আয়োজন করেছি। যা আমরা তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। এই কারণে আমাদের বেশি বেশি নজরুল চর্চা করা প্রয়োজন। যাতে করে আমাদের তরুণরা ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস পায়, সেই সাহসে সাহসী হয়ে আমাদের তরুণ প্রজন্ম আগামীর বাংলাদেশের হাল ধরবে।’

এতে প্রধান আলোচক ছিলেন টাঙ্গাইল ল কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. সেলিম মিঞা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুণ হোসাইন। এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে নজরুলের সঙ্গীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি করা হয়।

এসএস