বান্দরবানের রুমা উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। উপজেলা সদর ছাড়াও সীমান্তবর্তী গ্যালেংগা ও পাইন্দু ইউনিয়নের ম্রো ও খুমী অধ্যুষিত বিভিন্ন দুর্গম পাড়াগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এ সংক্রামক রোগ। জ্বর সর্দি কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি নিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। তবে দুর্গম ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেকে আক্রান্ত হওয়ার পরও বাড়িতে অবস্থান করছে। এতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
শয্যা সঙ্কটে হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে হামে আক্রান্ত শিশু। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নেয়ার পথে মারা যায় শিশুটি। এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেনসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না থাকায় চিকিৎসার জন্য রোগীদের নিয়ে আসা হচ্ছে বান্দরবান সদর হাসপাতালে। তবে সেখানেও শয্যা সঙ্কট পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় হামে আক্রান্ত রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে সঠিক চিকিৎসা থেকে।
রোগীর স্বজনরা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তারার পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না। তাদের অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৭ শিশু মারা গেছে হাম নিয়ে।
বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বাড়ি বাগি গিয়ে চেষ্টা করছি। সচেতন করছি। যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া যায় তাদের দেয়া হচ্ছে। যাদের অবস্থা একটু জটিল তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাচ্ছি।’
এদিকে দুর্গম এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেডিকেল টিমের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়ার কথা জানান এই চিকিৎসক।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীসহ অন্যান্যরাও তৎপর রয়েছে। যে এলাকায় হাম রোগী আছে তারা সেই এলাকা পরিদর্শন করে। তারা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।’
গত একমাসে বাদরবান জেলার রুমা উপজেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।





