কুষ্টিয়ায় লাইসেন্সহীন ক্লিনিকের দাপট, ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

এখন জনপদে
1

নামমাত্র চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে চাইলেই ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হওয়া যায় কুষ্টিয়ায়। যত্রতত্র মানহীনভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠানের ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়তই ঘটছে রোগী মৃত্যুর ঘটনা। প্রতারিত হওয়ার সংখ্যাও কম নয়। সব জেনেও নিশ্চুপ স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লাগোয়া এক ভবনেই গড়ে উঠেছে লোটাস হাসপাতাল, লোটাস চক্ষু হাসপাতাল ও লোটাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান। ভবনের অপ্রশস্ত সিঁড়ি, নামমাত্র লিফট থাকলেও রোগীর ট্রলি ঢোকে না। অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের হুইল চেয়ারে করে ওঠানো-নামানো হয়।

সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও একজন ডাক্তারও থাকেন না। চলতি মাসে ভুল চিকিৎসায় পিত্তথলির অস্ত্রোপচার করা উপজেলার খয়েরচাড়া গ্রামের আনোয়ারা বেগমের মৃত্যুর অভিযোগ স্বজনদের। এর আগেও এ হাসপাতালে আরেক নারীর মৃত্যু হয়। জানা গেছে, এই তিন প্রতিষ্ঠানের মালিকের ছোট ভাই প্রসেনজিৎ বিশ্বাস স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মী। কর্মকর্তাদের সাথে সখ্য গড়ে তিনি এ অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে, মালিক পক্ষের দাবি- তারা নিয়ম মেনেই প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন।

কুমারখালী লোটাস হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস বলেন, রোগী মৃত্যুর যে বিষয়টা, সেটা হচ্ছে আমার এই তিন হসপিটাল পরিচালনা পরিচালক হিসেবে কোনো ধরনের কোনো ক্যাজুয়ালিটি বা কখনো কোনো সময়ের জন্য ঘটেনি। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছি, এবং আমার বেসিক্যালি অন্য কোনো ধরনের কোনো কিছুতে জড়িত নেই।

জেলার বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও হাসপাতাল ঘুরে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রোগী মৃত্যুর পাশাপাশি প্রতারিত হয়ে লাখ লাখ টাকা খোয়াচ্ছে রোগীর স্বজনরা। কুমারখালী চক্ষু হাসপাতাল পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। হাসপাতালের সাইনবোর্ডে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখা থাকলেও তারা কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটির মালিকের দাবি, প্রতিষ্ঠান এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করেননি, লাইসেন্স পেলে চালু করবেন।

কুমারখালী চক্ষু হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী আলিমুজ্জামান বদর বলেন, চক্ষু প্রতিষ্ঠান এটা এখনো পর্যন্ত আপনার অপারেশন ক্লিনিকের জন্য যে চক্ষু ক্লিনিকের জন্য যে আবেদন করা হয়েছে, সেটার আমরা এখনো অনুমোদন পাইনি। অনুমোদন পেলে এটা হচ্ছে অপারেশন একটা ক্লিনিকের যে সেবা অপারেশন চালু হয় সেটা চালু হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না।

স্থানীয়রা বলেন, আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই যে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কারোর সাথে আপস নয়। কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এই অবৈধ ক্লিনিকগুলোর। এই হসপিটালের যারা ডাক্তার তারাই কিন্তু এই ক্লিনিকে বসছে। তারা দেখছে যখনই আমি হসপিটালের স্বাস্থ্যের মান ডেভলপ করবো, তখন ক্লিনিক ব্যবসা ঝিমিয়ে পড়বে।

ক্লিনিক-ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোর ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিবর্গের সুপারিশে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তবুও এসব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এই লোটাস ক্লিনিকে একটা কিছুটা সমস্যা তৈরি করে যে তারা কখনো বিভিন্ন দল, সরকারি, সরকারের সহযোগী বা বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এরা প্রায় কিন্তু আমাকে আসলে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে তারা ফেলে। সম্প্রতি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাও পর্যন্ত অফিসে পর্যন্ত চলে আসছে।

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, জেলায় ২৮৪টি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ৪৩টির। গত ৫ মাসে এখন পর্যন্ত ১১জনের মৃত্যু হয়েছে। তাই, জনসাধারণের আস্থা ফেরাতে শুধু আশ্বাস নয়, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে- স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

ইএ