স্বজনরা জানান, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান দেবাশীষ। বেঙ্গালুরুতে টানা ১৩ দিন চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ওঠেন তারা। পরিকল্পনা ছিল, রাতটি হোটেলে কাটিয়ে বুধবার সকালে বাংলাদেশে ফিরবেন।
এর আগে চিকিৎসা শেষে ফেসবুকে দেবাশীষ লিখেছিলেন, ‘টানা ১৩ দিন পর বেঙ্গালুরু বাই বাই।’ বাড়ি ফেরার আনন্দের সেই পোস্টের পরই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হোটেল ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। মুহূর্তেই ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ভবনটি। সরু সিঁড়ি ও ধোঁয়ার কারণে বের হতে না পেরে দেবাশীষ ও তার পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
মর্মান্তিক এ খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেবাশীষের আড়ুয়াপাড়ার বাড়িতে। কয়েক ঘণ্টা পর যেখানে প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষা ছিল, সেখানে এখন স্বজনদের আহাজারি। দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত, মা স্বপ্না দত্ত ও পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন।
আরও পড়ুন:
দেবাশীষের একমাত্র মেয়ে মহিমা (৮) পরিবারের সঙ্গে ভারতে যায়নি। কুষ্টিয়ায় দাদা-দাদির কাছে থেকে বাবা-মা, ছোট ভাই ও দাদুর দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিল সে। বুধবার তাদের বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও এখন অপেক্ষা করতে হচ্ছে স্বজনদের মরদেহ দেশে ফেরার।
দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতা অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও কাজ করেছেন তিনি। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন দেবাশীষ।
তার মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজে। সহকর্মীরা বলছেন, কর্মঠ ও প্রাণবন্ত এই সাংবাদিকের আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেয়া কঠিন। একই ঘটনায় তার স্ত্রী, শিশুসন্তান ও শ্বশুরের মৃত্যুও তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ জুবায়ের রিপন ও সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগরসহ সাংবাদিক নেতারা দ্রুত মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফেরার কথা ছিল দেবাশীষের। সামনে ছিল মাত্র একটি রাত। কিন্তু সেই রাতই হয়ে উঠল তাদের জীবনের শেষ রাত। কুষ্টিয়ার বাড়িতে এখনো অপেক্ষা—তবে প্রিয়জনদের জীবিত ফিরে আসার নয়, শেষবারের মতো তাদের মরদেহ দেখার।





