স্ট্যান্ড রিলিজের পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি পাবনার শিক্ষা কর্মকর্তা

শিক্ষা কর্মকর্তার যোগদান পত্র ও শিক্ষা কর্মকর্তা
এখন জনপদে
17

পাবনা সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনমকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হলেও তিনি ফরিদপুরে যোগ দেননি। সরকারি আদেশ অমান্য করে তিনি এখনো পাবনা সদরেই অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পাশাপাশি একাধিকবার বদলির আদেশ স্থগিত করানোর অভিযোগও রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দেন সাঈদা শবনম। অন্য উপজেলায় প্রায় দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পাবনা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন তিনি। এরপর প্রায় আট বছর ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার পর ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সাঈদা শবনমকে পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। পরে ওই বদলির আদেশ প্রথমে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কারণ দেখিয়ে ৩০ ডিসেম্বর আবারও বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়।

পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গত ৪ আগস্ট ২০২৬ আবারও তাকে পাবনা সদর থেকে ফরিদপুর উপজেলায় বদলির আদেশ দেয়। আদেশে ১০ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যথায় ১১ আগস্ট থেকে তাকে ‘তৎক্ষণিক অবমুক্ত’ বা স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য করার কথা জানানো হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরিদপুরে যোগ না দেয়ায় ১১ আগস্ট তাকে পাবনা সদর উপজেলা কার্যালয় থেকে অবমুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তবে স্ট্যান্ড রিলিজের পরও ফরিদপুরে যোগ দেননি সাঈদা শবনম।

এ বিষয়ে সাঈদা শবনম বলেন, ‘আমি বদলির আদেশ সংশোধন করার চেষ্টা করছি। এ জন্য ফরিদপুর উপজেলায় যোগদান করিনি।’

পাবনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাফিয়া আক্তার অপু বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে একাধিকবার বদলির আদেশ এলেও তা স্থগিত হয়ে যাচ্ছিল। তবে সর্বশেষ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ১১ আগস্ট তাকে পাবনা সদর কার্যালয় থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে অধিদপ্তরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

ফরিদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খ. ম. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সাঈদা শবনমকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এখন পর্যন্ত যোগদান করেননি, এমনকি তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগও হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে মাত্র একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে পুরো উপজেলার কাজ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’

পাবনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, ‘বারবার বদলির আদেশ স্থগিত হলেও এবার সাঈদা শবনমকে পাবনা সদর থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। ফরিদপুরে যোগদানের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো সেখানে যোগ দেননি।’

তিনি বলেন, ‘তাকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সরকারি আদেশ অমান্যের বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেআর