সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন, দুর্ভোগে শত শত যাত্রী

নওগাঁর জরাজীর্ণ আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন
এখন জনপদে
0

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘদিন কোন সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ অবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতে টিন দিয়ে পানি পড়া, নেই যাত্রীদের বসার সুব্যবস্থা। ফ্যান না থাকায় গরমে অস্বস্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। এমনকি, রাতেও ঠিকমতো জ্বলে না লাইট। প্রতিদিন শতশত যাত্রী বিভিন্ন অঞ্চলে এ স্টেশন দিয়ে আসা-যাওয়া করে। স্টেশনটি আধুনিকায়নসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আয় বাড়বে, দাবি স্থানীয়দের।

আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনটি আত্রাই উপজেলাবাসীর জন্য যোগাযোগের লাইফলাইন। প্রতিদিন এ স্টেশন থেকে শত শত যাত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে। দীর্ঘদিন কোন সংস্কার না হওয়ায় স্টেশনটির জরাজীর্ণ অবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতে পানি পড়া, ফ্যান না থাকা গরমে অস্বস্তি এমনকি রাতেও ঠিকমতো জ্বলে না লাইট।

প্লার্টফর্মে অবস্থানকালীন বসার ব্যবস্থা না থাকায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে ট্রেনের বিলম্ব হলে মহিলা ও শিশুদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় যাত্রীসেবা শূন্যের কোঠায়। স্টেশনটি আধুনিকায়নের দাবি স্থানীয়দের।

যাত্রীরা জানান, অন্য স্টেশনগুলোর মতো আপডেট হয় নাই। আর এটার খুব দ্রুত আমরা একটা সংস্কার দরকার।

প্লার্টফর্মে রয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট। আবার রেললাইন ঘেঁষে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। এতে স্টেশনে উঠা-নামা করতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যাত্রীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ- অর্থের বিনিময়ে স্টেশনের জায়গায় অবৈধভাবে দখলের সুযোগ করে দিয়েছে স্টেশনের বুকিং সহকারী। তবে এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘টাকা দিয়ে এ দোকান এখানে মাস্টারেরা আপনার সব জায়গায় দিয়ে দিছে।’

রুপসা, তিতুমীর, নীলসাগর, দ্রুতযান ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসসহ ১৪টি ট্রেন আহসানগঞ্জ স্টেশনে আপ-ডাউনে থামে আর ৩২ টি ট্রেন এ লাইনে চলাচল করে। আত্রাই এবং আহসানগঞ্জ স্টেশন এক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে- তা অনিশ্চিত বলে জানান স্টেশন মাস্টার।

আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মমিন উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, ‘স্টেশনের আশেপাশে সারা বাংলাদেশেই দোকানপাট। তাদেরকে ১০০ বার তাড়িয়ে দিলেও তা আবার এসে বসে পড়ে। আহসানগঞ্জ স্টেশন ওখানে থাকবে কিনা এটা এ মুহূর্তে বলতে পারতেছি না। তবে দুই স্টেশন মিলে এক জায়গায় হওয়ার একটা প্রক্রিয়া হাতে আছে।’

রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করে একটি আধুনিক ও মানসম্মত রেলওয়ে স্টেশন নির্মানসহ ভ্রমণকারী যাত্রীদের আরও উন্নত সেবা প্রদান নিশ্চিত করা হোক- এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।

জেআর