শিশু থেকে বৃদ্ধ- হাসপাতালে অগণিত মানুষের এ যাতায়াত প্রতিদিনের ছবি। এদের ৯০ ভাগ চর, গ্রামগঞ্জ বা মফস্বলের মানুষ। অথচ গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক, ৩১ শয্যার হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ চার স্তরের সেবা দিচ্ছে সরকার।
রোগীরা জানান, ভালো ডাক্তার আছে। আর এখানে সেবাটাও অনেক ভালো পাই। এই কারণে আর কি মূলত রাজশাহীতে আসা।
রাজশাহীর গোদগাড়ীর ৩১ শয্যার এই হাসপাতালে ওষুধের স্বল্পতা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, এক্সরে না থাকাসহ রোগীদের আছে শত অভিযোগ। একই অবস্থা বাঘা, দূর্গাপুরসহ প্রান্তিক উপজেলার হাসপাতাল গুলোর। আছে জনবল সংকটও।
গোদাগাড়ীর মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. আহসান হাসিব বলেন, সার্জারির কোনো কনসালটেন্ট নেই, স্পেশালিস্ট নেই। যার কারণে যে রোগীগুলো সার্জারি রিলেটেড সমস্যা হবে, মনে করেন মাথায় হেড ইনজুরি—এই রোগীগুলোকে তো আমরা আল্টিমেট আপনাকে হায়ার সেন্টারে রেফার করতেই হবে।
রাজশাহীর পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মোহা. আসাদুজ্জাান বলেন, আমি সব অপারেশন, সব চিকিৎসা এখানে আসলে দিতে পারব না। একটা রোগীর ডায়ালাইসিস দরকার, আমার এখানে সেই সুযোগ নাই। এটা অনেক জটিল ব্যাপার এবং ব্যয়বহুল ব্যাপার। রাজশাহীর প্রেক্ষাপটটা একটু ভিন্ন, আমরা সরাসরি পাঠায় দেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজে; যেহেতু এখানে জেলা হাসপাতাল বলে কিছু নেই।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিআইডিএস-এর স্বাস্থ্যসেবার অপূর্ণ চাহিদা শীর্ষক গবেষণা বলছে, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় সারির চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর বেহাল অবস্থা, রোগীদের রেফার্ড ও অব্যবস্থাপনা অনেক বেশি। তাতে চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও ৭৩ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না রাজশাহীতে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ আব্দুর রাজ্জাক সরকার বলেন, রাজশাহী বিভাগে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার দরকার, কিন্তু অপূর্ণতা থেকে যায়; অর্থাৎ তারা নিতে পারে না। এটা পার্সেন্টেজ প্রায় ৭২ পার্সেন্টের উপরে।
এই গবেষণায় আরও দাবি করা হচ্ছে এই অবস্থায় চিকিৎসা নিতে ব্যয় বাড়ছে প্রান্তিক মানুষের।
এমন পরিস্থিতির উত্তরণ ও বাস্তব অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গেলে বিভাগীয় এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ডিজি অফিসের স্পেশাল অনুমতি ছাড়া সংকট নিয়ে কথা বলা যাবে না। এছাড়া গবেষণার বিষয় নিয়ে কথা বলাকে অযৌক্তিক মনে করছেন তিনি।
রাজশাহীর বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হবিবুর রহমান বলেন, এই কথা বলতে পারি আমি? কে কেন পাচ্ছেন না? না, না, এটা তো অযৌক্তিক কথা বলে তো লাভ নাই।
বিআইডিএস-এর গবেষণা মতে, রাজশাহীতে প্রয়োজন মতো চিকিৎসা নিতে পারছেন ২৬.৭১ শতাংশ মানুষ। যা অন্যান্য বিভাগগুলোর চেয়ে ২২.৩৯ শতাংশ পর্যন্ত কম।





