২০২১ সালে সন্তানের মা হন ফাইজা তারিন। বাসায় ফিরে বুঝতে পারেন তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দীর্ঘ ১৯ দিন পর সুস্থ হন।
ভুক্তভোগী ফাইজা তারিন বলেন, ‘আমি চিকিৎসা নেয়ার জন্য গেলে তারা প্রথমে আমাকে এইচডিউটে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়।’
গ্লোবাল পেশেন্ট সেফটি রিপোর্ট বলছে, অনিরাপদ চিকিৎসায় বছরে বিশ্বব্যাপী ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। যার দুই তৃতীয়াংশই ঘটে বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে। সম্প্রতি আইসিডিডিআরবি'র গবেষণা বলছে, দেশের হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়েছে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া।
বিশ্বের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্থার সনদ নেয়া বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশে তেমন ব্যবস্থা না থাকায় থামানো যাচ্ছে না সংক্রমণ ও মৃত্যু। অপরদিকে, নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা রিপোর্টে অনেক সময় ভুল হয়। একই টেস্টের আলাদা রিপোর্টে বিভ্রান্ত হন রোগীরা। এব্যাপারে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও রেগুলেটরি বডি না থাকাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. মোহাম্মদ আকরাম হোসেন বলেন, ‘সরকারের পক্ষে থেকে একটা আইন করে সব হাসপাতালকে একি নিয়মের মধ্যে আনা গেলে ভালো হয়। আর তা করে যদি বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে রোগীদের জন্য ভালো হবে।’
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্ট সায়েন্টিফিক সেক্রেটারি ডা. ইব্রাহিম ইকবাল বলেন, ‘অনেক কারণে ভুল রিপোর্ট হতে পারে। যদি রেগুলেটরি বডি থাকে তাহলে অনেক সমস্যা থেকে বাঁচা যাবে।’
পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে বলছে, ৩৮ ভাগ মানুষ মনে করেন- তারা ভুল চিকিৎসার শিকার। এমন ঘটনায় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার বা বিএমডিসিতে অভিযোগ করার পাশাপাশি সরাসরি মামলা করার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের। যদিও দীর্ঘসূত্রতা, মামলা পরিচালনায় অর্থ-সময় ব্যয়সহ নানা কারণে এসব এড়িয়ে যান ভুক্তভোগীরা। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, জনবল সংকটে ভুক্তভোগীদের উত্থাপিত অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য আমাদের জনবল অনেক কম। এ কারণে আমাদের কাজের সমস্যা হচ্ছে।’
চট্টগ্রাম মহানগর সুশাসনের জন্য নাগরিকের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটা টিম থাকা দরকার। তা থাকলে তারা নিয়মিত মনিটরিং করলে সমস্যা সমাধান হবে। তা না করে তাহলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।’
দেশে ৮৮ হাজার চিকিৎসক দরকার, পদ আছে ৪৪ হাজার আর কর্মরত ৩৩ হাজার। রয়েছে নার্স ও টেকনিশিয়ানের তীব্র সংকট। হাসপাতালে ৪ থেকে ৫ গুন বেশি রোগী ভর্তি থাকায় প্রচণ্ড চাপ সামলাতে হয় চিকিৎসকদের।
চমেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মাইমুন রিদওয়ান চৌধুরী বলেন, ‘চিকিৎসক কম থাকায় আমার ঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছি না। কেউ যদিভাবে আমরা ঠিক মতো চিকিৎসা দিচ্ছি না। এটা কিন্তু ভুল ধারণা।’
বর্তমানে ভুল চিকিৎসা নিয়ে বিএমডিসি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করলে কেবল চিকিৎসকদের নিয়েই সেটি গঠিত হয়। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার স্বার্থে ওই কমিটিতে ভুক্তভোগীর প্রতিনিধি এবং একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ রাখার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।





