ফেনীতে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ভোক্তা অধিকারের অভিযান
এখন জনপদে
1

ফেনীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। আজ (রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের শুরুতে শহরের ট্রাংক রোড এলাকার ফেনী শিশু নিকেতন কালেক্টরেট স্কুলসংলগ্ন একটি ভ্রাম্যমাণ খাদ্য দোকানে নিম্নমানের সস ও অস্বাস্থ্যকর নোংরা তেঁতুল দিয়ে বিশেষ ধরনের টক তৈরি করে ভেলপুরি বিক্রি করতে দেখা যায়। পরে ওই টক ও সস জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি না করতে বিক্রেতাকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

এসব অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

অন্যদিকে ট্রাংক রোড এলাকার ‘নবী ব্রাদার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অভিযোগে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় দীর্ঘদিনের পোড়া তেল, লেবেলবিহীন নিম্নমানের সস ও ফ্লেভার ব্যবহার এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অভিযোগে এসব জরিমানা করা হয়। অভিযানে বেশ কিছু নিম্নমানের খাদ্যপণ্য ও খাদ্য তৈরির উপকরণ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনীর সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শামসুল আরেফীন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

এছাড়া একই এলাকায় ‘ফুড প্যালেস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের পোড়া তেল সংরক্ষণ করে তা দিয়ে চিকেন, পাকোড়া, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফুচকাসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। খাবারে লেবেলবিহীন নিম্নমানের সস ও ফ্লেভারও ব্যবহার করা হচ্ছিল।

অভিযান চলাকালে ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিম্নমানের খাদ্য বিক্রি করা একাধিক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাকে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিশু ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রি প্রতিরোধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ইএ