আম্বানির চিড়িয়াখানার লেমুর বাংলাদেশ থেকে চুরি হয়েছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে: পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু
এখন জনপদে
1

গাজীপুরের সাফারি পার্ক থেকে দুই লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। একই সঙ্গে ভারতের আম্বানির চিড়িয়াখানায় থাকা দুটি লেমুর বাংলাদেশের সাফারি পার্ক থেকে চুরি হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আজ (শুক্রবার, ৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। পরে তিনি সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের উন্নয়ন ও দর্শনার্থীদের বিনোদন সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য উদ্যানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে শিগগিরই উদ্যোগ নেয়া হবে।’

দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারা দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ও উন্নয়ন দেখা যাবে। এ লক্ষ্যে ঢাকার আমিনবাজারে ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণেও বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও সম্পদ উৎপাদনের প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।’

আরও পড়ুন

বনের জমিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা এবং বনভূমি উদ্ধার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ বসবাস করে এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া সম্ভব নয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, আগে থেকে গড়ে ওঠা যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে বনভূমি রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে মামলা করা হয়েছে।’

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ভেতরে সাধারণ মানুষের মালিকানাধীন ৪৬৫ একর জমি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব জমির মালিকেরা সেখানে যেতে বা জমি ব্যবহার করতে পারছেন না। আবার কিছু এলাকায় জনবসতি গড়ে ওঠায় সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

এসব জটিলতা সমাধানে চলতি মাসের মধ্যে আইন বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। এতে জনগণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরু-আল-মামুন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম. ইকবাল হোছাইন চৌধুরীসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জেআর