ফরিদপুরে পেঁয়াজ চাষে বন্ধের মুখে প্রাকৃতিক পরাগায়ন; বাড়ছে উৎপাদ খরচ

কৃষি , গ্রামীণ কৃষি
এখন জনপদে
0

দেশের মোট চাহিদার অর্ধেক পেঁয়াজ বীজ আসে ফরিদপুর থেকে। ‘কালো সোনা’ খ্যাত-এ বীজ উৎপাদন এখন হুমকিতে। মৌমাছি কমে যাওয়ায় বন্ধের মুখে প্রাকৃতিক পরাগায়ন। তাই হাত দিয়েই করতে হচ্ছে পরাগায়ন।

গত প্রায় দুই দশক ধরে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে দেশের শীর্ষে ফরিদপুর। অত্যন্ত মূল্যবান এ বীজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ জোগান দেয়। তবে গত ৩ থেকে ৪ বছর ধরে পরাগায়নের সংকটে পড়েছেন চাষিরা।

মৌমাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের অভাবে বাধ্য হয়ে কৃত্রিমভাবে হাত দিয়ে পরাগায়ন করছেন কৃষকরা। এতে বীজের মান ঠিক রাখার চেষ্টা হলেও বাড়ছে উৎপাদন খরচ। অম্বিকাপুর, ভাষানচর, গোবিন্দপুরসহ বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়—সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শত শত চাষি হাতে হাতে পেঁয়াজ ফুলে ম্যাসাজ করে পরাগায়ন করছেন। আগের মতো মৌমাছি না থাকায় হাতের মাধ্যমে পরাগায়ন করা হচ্ছে বলে জানান চাষিরা।

আরও পড়ুন:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন ও আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে কমছে মৌমাছির সংখ্যা। ফলে প্রাকৃতিক পরাগায়ন ব্যাহত হচ্ছে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, মৌ বক্সের মধ্যে যদি মৌমাছি পালন করা যায়। তাহলে কৃষকরা দুইভাবে লাভবান হবে। এক মধু পেয়ে, আর দুই পরাগায়নের মাধ্যমে।’

গবেষকরাও বলছেন, প্রাকৃতিক উপায়ে মৌমাছি ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমবে।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘পেঁয়াজ ফুলের চাষ, এটা দেশের অর্থনীতির জন্য খুবি লাভজনক চাষ। আমরা যদি এটাকে প্রাকৃতিকভাবে চাষ করতে পারি তাহলে আমাদের জন্য অনেক লাভজনক হবে।’

চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ১ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১১০০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা।

জেআর