হাওরে আগাম বন্যার ঝুঁকি; দুশ্চিন্তায় কৃষক

হাওর
কৃষি , গ্রামীণ কৃষি
এখন জনপদে
0

সিলেটের হাওরাঞ্চলে এখন সোনালি ধানের হাসি। কিন্তু সেই হাসিকেও ম্লান করে দিচ্ছে অকাল বন্যার আশঙ্কা। কয়েকদিনের গুমোট আবহাওয়া কৃষকদের মনে করিয়ে দিচ্ছে গত কয়েক বছরের তিক্ত স্মৃতি। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া না গেলেও এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় পেলে কোনো সংকট তৈরি হবে না হাওরে।

সিলেট অঞ্চলের হাওর জনপদের সবুজ ধানের শিষ এখন অপেক্ষা করছে কৃষকের মুখের হাসির জন্য। সিলেট বিভাগের চার জেলায় এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬৫৩ হেক্টর জমিতে। যা থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে- ২০ লাখ ৬০ হাজার ৪৫১ মেট্রিকটন। যা মোট উৎপাদনের ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

৭ এপ্রিল থেকে সিলেটে শুরু হচ্ছে ফসল ঘরে তোলার উৎসব। বিগত বছর দুয়েক হাওরের কৃষকরা উৎপাদিত ফসল ঘরে তুললেও এবার প্রতিকূল আবহাওয়া দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়ের আগেই ভারী বৃষ্টিপাত আর শিলাবৃষ্টির কারণে বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন:

এখন যে অবস্থা তা যদি পানিতে তলায় যায় তাহলে কীভাবে সামনের দিনগুলো চলবে তা জানে না বলে জানান এখানকার কৃষকরা।

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়েও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের নানা অভিযোগ। ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতায় হাওরের অনেক জমি পানির নিচে তলিয়েছে। আর বাঁধের কাজ সময় মতো না হওয়া এবং নির্মাণত্রুটির কারণে এখন পুরোই ঝুঁকিতে হাওরের কৃষি জমি- বলছেন হাওর সংশ্লিষ্টরা।

সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন বলেন, ‘সুনামগঞ্জে যে কাজের মান তা নাজুক এবং দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্চ মাস থেকে হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে আর আমরা এর মধ্যে কোনো উদ্যোগ দেখিনি।’

যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সতর্কতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এপ্রিলের মধ্যেই উত্তোলন করা যাবে হাওরের উৎপাদিত ফসল।

আরও পড়ুন:

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘প্রতি বছর মার্চ-মে মাস অব্দি অনেক বৃষ্টি হয় তাই আগাম বন্যা হয়। তাই এবছর ও এ আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারি না। সে কারণে আমাদের হাওরের পিএইচ এর কাজ প্রায় শেষের দিকে। ফসল ও ১৫ দিন পর থেকে কাটা শুরু হবে।’

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘কৃষক ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আমরা মতো বিনিময় করেছি। যাতে করে আমরা খুব দ্রুত ফসল কেটে আনতে পারি।’

হাওরের সোনালি স্বপ্ন এখন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। সময় মতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে বিগত বছরের সকল উৎপাদন রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা কৃষি সংশ্লিষ্টদের।

জেআর