জনি বিশ্বাস ফরিদপুর শহরতলীর বিলনালিয়া গ্রামের দিনমজুর কাদের বিশ্বাসের ছেলে। সে ফরিদপুর শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে।
বিআরটিএ ফরিদপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই জনি বিশ্বাস তার অফিস কক্ষে ঢুকে পড়ে। জনি নিজেকে ‘সাপ্তাহিক বাংলা’ সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলে, ‘আপনি দুর্নীতি করে অনেক টাকা কামিয়েছেন। আপনাকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। আমাকে ২০ হাজার টাকা দেন। তাহলে আমি আপনার বিরুদ্ধে লেখালেখি করবো না।’
মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমার কাছে সরাসরি চাঁদা দাবি করায় আমি বিস্মিত হয়ে সে সাংবাদিক কি না তা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সে উত্তেজিত হয়ে আমার অফিসের টেবিলে থাপ্পড় দিয়ে টেবিলের কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে। এসময় সে উচ্চস্বরে চিল্লাপাল্লা করতে থাকে। শব্দ পেয়ে আমার অফিসের অন্যান্য কর্মীরা এসে তাকে আটক করে। পরে বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানালে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে জনি বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ।’
আরও পড়ুন:
বিআরটিএ ফরিদপুর সার্কেলের সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা জানান, অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জনি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, অফিসে ভাঙচুরের খবর পেয়ে জনি বিশ্বাসকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে আটকের সময় ধারণ করা এক ভিডিওতে ভাঙচুরসহ অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করতে শোনা যায় জনি বিশ্বাসকে। সংবাদের জন্য মোটরযান পরিদর্শকের সাক্ষাৎকার গ্রহণের জন্য গিয়েছিলেন তিনি এমন দাবি তার।
উল্লেখ্য, শেখ ফয়েজ আহমেদের সম্পাদিত সাপ্তাহিক বাংলা সংবাদ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেন জনি বিশ্বাস। গত এক মাস যাবৎ এই পত্রিকায় ঢুকেছেন বলে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ জনি বিশ্বাস নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করে আসছে।
এছাড়া গত দুই সপ্তাহ আগেও শহরের টেপাখোলা এলাকায় পান্নুর ইট ভাটায় গিয়ে চাঁদা দাবি করায় সেসময় গণপিটুনি দিয়ে তাকে পুলিশে হাতে সোপর্দ করা হয়।





