আজ (মঙ্গলবার, ১৩ মে) বিকেলে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক শাকের মাঝি ওই এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং কবির আহমদের ছেলে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এক ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শাকের মাঝি টেকনাফের অন্যতম শীর্ষ মানবপাচারকারী। গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে ট্রলারডুবির ঘটনায় মানবপাচারের মূলহোতা হিসেবে তার নাম উঠে আসে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।’
পুলিশ জানায়, আটক শাকের মাঝির বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মানবপাচার, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং, টেকনাফ সদর ও বাহারছড়া ইউনিয়নজুড়ে সক্রিয় রয়েছে একাধিক মানবপাচারকারী চক্র। এসব চক্রের সদস্যরা অবৈধভাবে মানুষকে সাগরপথে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বাধ্য করছে।
আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের স্বজনরাও শাকের মাঝির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তারা এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে যাত্রাকালে বাংলাদেশি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ জন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে উদ্ধার করে। তারা পানির ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে জীবিত ছিলেন।
পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি ও ৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে কক্সবাজার, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন।৭





