পশ্চিমবঙ্গে শপথ নিলেন জয়ী বিধায়কেরা, ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ শুভেন্দুর

শুভেন্দু অধিকারী
বিদেশে এখন
0

পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ (বুধবার, ১৩ মে) বিধানসভার অ্যানেক্স ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভবানীপুর আসনের জয়ী বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পর একে একে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিক। একই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলার আরও কয়েকজন জয়ী বিধায়ক শপথ নেন। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

আজ (বুধবার, ১৩ মে) কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন জেলার মোট ১৪৩ জন বিধায়ক শপথ নেন।

এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—দুই আসনেই জয় পান। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির নওদা আসন থেকে বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি নওদা ও রেজিনগর—দুই আসনেই জয়ী হওয়ায় রেজিনগরেও উপনির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আজ (বুধবার, ১৩ মে) বিকেলে শপথ নেন বারুইপুর পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক বিমান ব্যানার্জি এবং ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বিমান ব্যানার্জি বলেন, ‘জনগণের রায় মেনে নিয়ে বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে তৃণমূল।’

রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘গণতন্ত্রে কখনো সরকারে, কখনো বিরোধী দলে থাকতে হয়। বিরোধী দলের দায়িত্বই এখন তাদের প্রধান কাজ।’

শপথ গ্রহণ পর্ব আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ১৪ মে) চলবে বলে জানা গেছে । সেদিন কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের জয়ী বিধায়কেরা শপথ নেবেন।

এদিকে আগামী শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার পদে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ছয়বারের জয়ী বিধায়ক তাপস রায়কে এ পদে আনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমবার আজ বিধানসভায় প্রবেশ করেন। তাকে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে ড. বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি। বিধানসভায় ঢোকার আগে জুতা খুলে প্রণাম করেন তিনি।

শপথের পর নবান্নে গিয়ে ৪১টি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে প্রশাসনিক সংস্কার, দপ্তরগুলোর কাজের গতি বাড়ানো এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।

এরইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার সরকারি দপ্তরে কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ গবাদিপশু পাচার, বেআইনি গরুর হাট ও কসাইখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতার মামলাগুলো পুনর্মূল্যায়নেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এএম