আজ (বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তর এবং এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তারা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানস্থল ছিলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকার ডেলিভারি গেট নম্বর ৮-সংলগ্ন ইয়ার্ড।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সরদার গ্লোবাল ট্রেড’ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পণ্যচালানটি আমদানি করে। চালানে মোটর পার্টস, কসমেটিকস, মিনি পিসি, ট্যাবলেট, প্রজেক্টর ও কম্পিউটার পার্টসের ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো।
পণ্যচালানটি খালাসের উদ্দেশে আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফাহিম ফাইভ স্টার লি.-এর মাধ্যমে অ্যাসিকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম-এ ২৯ জুলাই দাখিল করা হয়।
তবে পণ্যচালানটির বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাছে পূর্ব থেকেই গোপন তথ্য ছিলো। ওই তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটক করে কায়িক পরীক্ষা শুরু করা হয়। কায়ীক পরীক্ষায় দেখা যায়, নতুন পণ্যের ঘোষণার আড়ালে পুরোনো ও ব্যবহৃত পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা ঘোষণাবহির্ভূত এবং আমদানি বিধি লঙ্ঘনের শামিল।
আরও পড়ুন:
মোট ১০১টি কার্টনের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৫০টি ল্যাপটপ, ৯৬৩ দশমিক ৮ কেজি কার পার্টস, ৯৬টি হার্ড ডিস্ক, ২৯১ দশমিক ১৪ কেজি কসমেটিক্স, ৯৬টি মিনি পিসি। প্রায় কোটি টাকার এই পণ্যসমূহ আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় পণ্য শুল্ক-কর দিয়ে আইনানুগভাবে খালাসের কোনো সুযোগ নেই।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, আমদানি শর্ত পূরণযোগ্য না হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কসমেটিক্স এভাবে খালাসের অপচেষ্টা করা হয়। ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আমদানি নিষিদ্ধ। কারণ, এগুলো নতুন হিসেবে বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণা করার ঝুঁকি রয়েছে এবং পরিবেশের জন্য এগুলো ক্ষতিকর।
আর মোটর পার্টস আসলে আনঅ্যাসাম্বলড গাড়ি কি না, যার চেসিস হয়তো কন্টেইনারে আলাদাভাবে আনা হতে পারে এরকম অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে বলে জানান তারা।
এছাড়া এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দায় নিরূপণসহ কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।





