বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বা চাহিদা প্রায় ১৭ লাখ মেট্রিক টন। নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় বাসাবাড়ি ও শিল্প-কারখানায় এলপিজির ব্যবহার বাড়ছে। প্রতি বছর গড়ে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে এই চাহিদা। সমীক্ষা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই চাহিদা দাঁড়াতে পারে ২৫ লাখ টনে।
দেশে এলপিজির বাজার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার। সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে ক্রুড অয়েলের উপজাত হিসেবে বছরে মাত্র ১৫ থেকে ১৭ হাজার টন এলপিজি সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ মোট চাহিদার ৯৯ শতাংশই আসে বেসরকারি আমদানির মাধ্যমে। দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে ৫২টি কোম্পানির। এর মধ্যে ৩২টির নিজস্ব প্ল্যান্ট আছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে এলপিজির আমদানি মূল্য ছিল গড়ে ৭৫ টাকা, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৮ টাকা এবং মার্চে ৮০ টাকায়। দুই মাসে আমদানি মূল্য বেড়েছে মাত্র ৫ টাকা।
অথচ এপ্রিল মাসে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এক লাফে প্রতি কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়েছে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। পরিবেশকদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর এলপি গ্যাস পরিবেশক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে ইরান সংকটের কারণে আবার এ সংকট দেখা দিয়েছে। বিআরসি নির্ধারিত রেটে আমরা কোনো গ্যাস পাইনা, এটা হলো বাস্তব। কোম্পানিভেদে আমরা দেখছি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা রেট বেশি।’
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি কোনো এলপিজি প্ল্যান্ট না থাকায় পুরো বাজার বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। ফলে দাম নির্ধারণ করা হলেও কার্যকরভাবে বাজারে হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকছে না।
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে মোর্শেদ বলেন, ‘এলপিজির ক্ষেত্রে বলা যায় পুরোটাই বেসরকারি লেভেল কন্ট্রোল করছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি নামে ছোট্ট যে একটা প্ল্যান্ট আছে সেখানে মাত্র ১ শতাংশ এলপিজি উৎপাদন হয়। বাকি ৯৯ শতাংশ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণে। এক্ষেত্রেও আমার মনে হয় সরকারের নজর দেয়া উচিত। যাতে সরকারের হাতে ৫০ শতাংশ এলপিজি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে থাকে।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে এলপিজি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাজার নিয়ন্ত্রণে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন তারা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে প্রথমে যেট করতে হবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে প্রপারলি কাজ করতে দেয়া। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশর হচ্ছে নখ ছাড়া বাঘ। সে একটা হুকুম দিতে পারে। কিন্তু হুকুমটা পালন করার জন্য যে পদ্ধতি আছে সেটা এতই ঘুরানো প্যাঁচানো যেটার কারণে এটা নিয়ন্ত্রণ করা ডিফিকাল্ট।’
এলপিজির বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত জানুয়ারিতে বিপিসিকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও তিন মাসেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।





