ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে: গভর্নর

মোস্তাকুর রহমান
দেশে এখন
অর্থনীতি
1

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সুশাসনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। আজ (শনিবার, ৪ ‍জুলাই) ‘ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহ-সংক্রান্ত ভূমিকাবিষয়ক আলোচনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (আইবিআরপিডি)-এর যৌথ উদ্যোগে বিআইবিএম ক্যাম্পাসে এ বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বক্তব্য দেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএম-এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আলম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ আমানতকারী ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে আগ্রহী। তাই শরিয়াহ কাউন্সিলকে আরও কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আগামীতে ‘বাংলা কিউআর’ সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

বিএবি-এর চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। তার মতে, ব্যাংকের সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে থাকলে ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও কার্যকারিতা আরও উন্নত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ বলেন, নতুন কাঠামোতে শরিয়াহ কমপ্লায়েন্সের ওপর ব্যাপক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এ খাতের সুষ্ঠু বিকাশে কার্যকর শরিয়াহ গভর্নেন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর শরিয়াহ গভর্নেন্স ও শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, দেশের ইসলামিক ব্যাংকিং আইন প্রণয়নের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইন কার্যকর হলে ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সুসংহত, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।

আলোচনা সভায় তিনটি কারিগরি উপস্থাপনা করা হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুশাসন এবং কার্যকর শরিয়াহ তদারকি জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য,বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।—বাসস

এএইচ