আজ (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার তুলনায় বেশি হলেও মূল বরাদ্দ ২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকার চেয়ে কম।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিমান অবকাঠামো উন্নয়ন, বহর সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন অ্যাভিয়েশন খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের রানওয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বিমানবন্দরগুলোর ধারণক্ষমতা ও সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
যাত্রীসেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হবে। এর ফলে বিমানের বহর সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক রুটে সংযোগ বৃদ্ধি, যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড প্রতিষ্ঠা, নতুন আন্তর্জাতিক গেটওয়ে তৈরি এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিকস হাবে উন্নীত করা হবে।
এছাড়া রাজশাহী, কক্সবাজার, যশোর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কার্গো পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ করতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, যাত্রীসেবা আধুনিকীকরণ, কার্গো ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ, বিমান নিরাপত্তা মান উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিমান চলাচল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, পর্যটন খাতের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে এবং জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে পর্যটন খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে।





