লাইটারেজ জাহাজে ডিজেলের সংকট; পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ
আমদানি-রপ্তানি
অর্থনীতি
0

ডিজেল সংকটে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডিপোগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না দেয়ায় এ সংকট। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন সেল থেকে লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেয়া হলেও প্রয়োজনীয় তেলের অভাবে অনেক জাহাজ বহির্নোঙরে যেতে পারছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বহির্নোঙর মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

শিল্পের কাঁচামাল, সার, খাদ্যশস্য,পাথর, কয়লা, সিমেন্টসহ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পণ্য বহির্নোঙরে খালাস করা হয়।

বন্দরে আসা জাহাজের সিংহ ভাগ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারে না। লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

প্রায় দেড় হাজার লাইটারেজ জাহাজ বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন করে। গড়ে একটি জাহাজে আড়াই থেকে আট হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গত ৫ ই মার্চ থেকে তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিপোতে রেশনিং করে জ্বালানি সরবরাহ করায়- অনেক লাইটারেজ জাহাজ তেল না পেয়ে বহির্নোঙরে যেতে পারছে না।

ডিলার ও জাহাজ অপারেটর শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘জাহাজ যেগুলো প্রোগ্রাম হচ্ছে একটি জাহাজও লোড হতে পারছে না। লাইটারেজ জাহাজ বহির্নোঙরে যেতে পারছে না। এতে পণ্যর দাম বৃদ্ধি পাবে। ভোক্তাদের ভোগান্তি হবে। একজন ডিলারকে তার চাহিদা অনুযায়ী তেল দেয়া হতো আগে। গত ৪ তারিখ থেকে তেল দেয়া বন্ধ। যার কারণে সংকট বেশি হয়েছে।’

গত কয়েকদিন রেশনিং করে ডিজেল পেলেও সোমবার থেকে অনেকে তাও পাচ্ছে না। শিপিং এজেন্টরা বলছেন, দুই এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস এবং বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে।

আকিজ শিপিং লাইনের এজিএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডিজেলের যে সমস্যা এটি লাইটারের জন্য অপরিহার্য। এটি না হলে কোনো জাহাজই চলাচল করতে পারবে না। আমাদের কাছে লাইটারেজ জাহাজ আছে ৫০টির বেশি, এতেই আমরা অলরেডি সংকটে পড়ে গেছি। আগামী দুইদিনের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে না আসলে অপারেশন বন্ধ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:

এক্ষেত্রে আমদানি বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই নৌপথে পণ্য পরিবহন সচল রাখতে লাইটারেজ জাহাজে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহের আহ্বান।

বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন সেল আহবায়ক শফিক আহমেদ বলেন, ‘সরকারকে অনুরোধ করবো এ বিষয়ে। নৌ সেক্টরে রেশনিং পদ্ধতিতেও তেল না দেয়, তাহলে মাদার ভেসেল থেকে মাল ডিসচার্জ করা অসম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েলের এই কর্মকর্তা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রেশনিং করে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ডিজিএম ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তা না, সরকার এ ক্ষেত্রে রেশনিং করছে। আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেভাবেই কার্যক্রম চলছে। তবে যে তারা পাচ্ছে না একেবারেই তা নয়।’

ডিজেল সংকটে পণ্য খালাস ব্যাহত হলে পুনরায় জাহাজ জট সৃষ্টির শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এফএস